সিপিআই(এম) থেকে সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া প্রতীক উর রহমানকে এদিন ধর্মতলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না মঞ্চে দেখা গেল। এবং ভোটরক্ষার মঞ্চ থেকে তৃণমূলের কথা ধার করেই জ্ঞানেশ কুমারকে ভ্যানিশ কুমার বলে কট...
সিপিআই(এম) থেকে সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া প্রতীক উর রহমানকে এদিন ধর্মতলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না মঞ্চে দেখা গেল। এবং ভোটরক্ষার মঞ্চ থেকে তৃণমূলের কথা ধার করেই জ্ঞানেশ কুমারকে ভ্যানিশ কুমার বলে কটাক্ষ করলেন। দাবি করলেন, "চাইলেও তৃণমূলকে ভ্যানিশ করতে পারবেন না জ্ঞানেশ কুমার"।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, টানা ১৫ বছর রাজ্য শাসনের পর এবার এক বড় সঙ্কটের মুখোমুখি হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একুশের বিধানসভায় বাংলায় নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের অশ্বমেধের রথ রুখে দিয়ে সর্বভারতীয় রাজনীতিতে বিজেপি-বিরোধী অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু, ছাব্বিশে সঙ্কট অন্য জায়গায়। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বাংলায় এসআইআর শুরুর আগে থেকে এখন অবধি হিসেব করলে একাধিক শ্রেণি বা ক্যাটেগরিতে 'বাদ' পড়েছে ৬৩ লক্ষ নাম। এছাড়া আরও ৬০ লক্ষ নাম বিবেচনাধীন ( UNDER ADJUDICATION)! এই পরিস্থিতিতে, আসন্ন ছাব্বিশের বিধানসভায় যথেষ্ট সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে বিরোধী দল বিজেপি। এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকা বিশ্লেষণ করে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চোখে পড়েছে পর্যবেক্ষকদের। বাদ অথবা বিবেচনাধীনের একটা বড় অংশই হয় সংখ্যালঘু, নয়তো মহিলা ভোটার। একুশে ঘরের লক্ষ্মীরা দু-হাত উপুর করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোট দিয়েছিলেন। এবং, ধর্মীয় মেরুকরণের সমীকরণে মুসলিমরা আরও বেশি করে তৃণমূলকে ভোট দিয়েছিলেন।
এমতাবস্থায়, বিজেপি বাদে বাম-কংগ্রেসের মতো বিরোধী দল স্পষ্ট জানিয়েছে তাদের অবস্থান, ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন নামের নিষ্পত্তি না-করে বিধানসভা ভোটের দিন ঘোষণা করা চলবে না। এবং, একই দাবি শাসক তৃণমূলেরও। এই পরিস্থিতিতে, 'ভোটরক্ষা'য় ধর্মতলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্য়্যায়ের ধর্না নির্বাচন কমিশনের উপর যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।