একদিকে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এবং অন্যদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে এ-এক নজিরবিহীন কুনাট্য বলে ...
একদিকে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এবং অন্যদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে এ-এক নজিরবিহীন কুনাট্য বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
কী বলছেন পর্যবেক্ষকরা?
রাষ্ট্রপতির আগমনকে ঘিরে শনিবার বাংলায় যা ঘটল, এ-দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে তার নজির খুঁজে পাচ্ছেন না পর্যবেক্ষকরা। এই নজিরবিহীন কুনাট্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, রাজ্য বনাম রাজ্যপাল দ্বৈরথের নজির রয়েছে ভূরি-ভূরি। ষাটের দশকের শেষে রাজ্যপাল ধরমবীরের সুপারিশে বাংলায় সরকার পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বামজমানার শেষের দিকে রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধীর সঙ্গে শাসকদল সিপিএমের সংঘাত কার্যত 'রাস্তার রাজনীতি'তে পরিণত হয়েছিল। 'পরিবর্তন'-পরবর্তী তৃণমূল সরকারের সঙ্গে প্রথমে জগদীপ ধনখড় ও পরে সদ্য পদত্যাগী সিভি আনন্দ বোস-এর সঙ্গে সংঘাত চূড়ান্তে পর্যায়ে পৌঁছেছে। রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধীকে যেমন তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন বামনেতারা, ঠিক তেমনই, ধনখড় ও বোস-কে 'বিজেপির দালাল' বলে দেগে দিয়েছে তৃণমূল। কিন্তু, কোনও রাষ্ট্রপতি রাজ্যে এসে শাসকদলকে মিছরি দিয়ে ছুরিকাঘাত করছেন, তা-ও বিধানসভা ভোটের মুখে, এমন নজির কিন্তু এ-দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে নেই বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। সংসদে পাশ হওয়া বিলে সই করাই রাষ্ট্রপতির কাজ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে অসংখ্যবার। বাজেট অধিবেশন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা দিবসের দিন রাজ্যপাল জাতির উদ্দেশে যে-বার্তা দেন, তা কেন শাসকদলের লিখে দেওয়া বয়ানের বাইরে বেরোতে পারে না, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। এমনকি, ইন্দিরা গান্ধীর পছন্দের রাষ্ট্রপতি জ্ঞানী জৈল সিংয়ের সঙ্গে পরে কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর তিক্ত সম্পর্ক এক সময়ে নিয়মিত সংবাদ শিরোনামে এসেছে। কিন্তু, ভোটের বাজারে রাজ্যে এসে রাস্তার ধারে হ্যান্ড মাইক হাতে শাসকদলকে বিঁধছেন কোনও রাষ্ট্রপতি, এহেন অলীক কুনাট্য আগে কখনও দেখা যায়নি।
বাদ-বিবাদ
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু : মুখ্যমন্ত্রী আসেননি, রাজ্যের কোনও মন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন না (বিমানবন্দরে)। মুখ্যমন্ত্রী আমার ছোট বোনের মতো। কিন্তু আমার ওপর কেন রেগে আছেন জানি না। কেন আমাকে বাংলায় আসতে দিতে চান না, তা-ও জানি না।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় : রাষ্ট্রপতি বিজেপির রাজনীতি বেচতে এসেছেন। রোজ যদি কেউ-না-কেউ আসেন, কী করব? জেলা প্রশাসন কোনও প্রোটোকল ভাঙেনি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী : লজ্জাজনক ও নজিরবিহীন ঘটনা। সব সীমা পেরিয়ে গিয়েছে তৃণমূল সরকার। রাষ্ট্রপতির পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ : রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান করে তৃণমূল আরও নিচে নামল। প্রোটোকলের ধার ধারেনি সরকার। গণতন্ত্রে আস্থাশীল যে কোনও নাগরিক এই ঘটনায় মর্মাহত।