পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে সৌদি আরবে সপরিবারে আটকে পড়েছেন ডোমজুড়ের এক বাসিন্দা। পরিবারের চোখ এখন টিভির পর্দায়। যতক্ষণ ওপার থেকে প্রিয়জনের গলার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণই স্বস্তি। কখন কী হয়? ...
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে সৌদি আরবে সপরিবারে আটকে পড়েছেন ডোমজুড়ের এক বাসিন্দা। পরিবারের চোখ এখন টিভির পর্দায়। যতক্ষণ ওপার থেকে প্রিয়জনের গলার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণই স্বস্তি। কখন কী হয়? ভয়ে আর আতঙ্কে রয়েছে গোটা পরিবার।
পেশায় কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ইউসুফ মিদ্দে (৬২)। সৌদি আরবের একটি অয়েল কোম্পানিতে উচ্চপদে চাকরি করেন। ২০০৩ সাল থেকে সৌদি আরবের দামাম শহরে থাকেন। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দামামা বাজতেই ইরান থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে মিসাইল এবং ড্রোন আছড়ে পড়ছে সৌদি আরব এবং পাশের দেশ বাহারিনে। খবর পাওয়া যাচ্ছে, ওই তেল কোম্পানির প্রোডাকশন ইউনিটে মিসাইল ছুঁড়েছে ইরান। দাউ দাউ করে জ্বলছে তেলের কূপ। এতে আতঙ্কে রয়েছেন ইউসুফ মিদ্দে এবং তার স্ত্রী চাঁদসুলতানা মিদ্দে।
টিভির পর্দায় এই ছবি দেখে চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন ডোমজুড়ে থাকা তাঁর পরিবারের সদস্যরা। ভাই দাউদ মিদ্দে জানান, তাঁর দাদা এবং বৌদির সঙ্গে প্রতিদিনই ফোনে কথা হয়। যুদ্ধ শুরুর পর প্রতিদিনই ফোনে কথা হচ্ছে। তাঁরা প্রত্যেকেই গভীর উদ্বেগে রয়েছেন। যেভাবে ইরান মিসাইল অ্যাটাক করছে, তাতে তাদের উদ্বেগ আরও বেড়ে গেছে। দাদা ও বৌদিও ফোনে জানিয়েছেন তাঁরা যথেষ্ট ভয়ের মধ্যে রয়েছেন।
সূত্রের খবর, ২০০৩ সাল থেকে ইউসুফ ওই দেশের বাসিন্দা। এর আগে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ বি.টেক পাশ করার পর ব্যাঙ্গালোরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স থেকে এম.টেক করেন। পরে আমেরিকার হাউসটন ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি করেন। ২০০৩ সাল থেকে তিনি সৌদি আরবের একটি তেল কোম্পানিতে এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার পদে চাকরি করছেন। পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন প্রতিবছর একবার করে ইউসুফ এবং তার স্ত্রী ডোমজুড়ের বাড়িতে আসেন। পরিবারের যেকোন অনুষ্ঠানে হাজির থাকেন।
উল্লেখ্য, গোটা পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যেভাবে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে গোটা পরিবার বুঝে উঠতে পারছে না কী করবেন। প্রার্থনা করছেন তাড়াতাড়ি রমজান মাসেই বন্ধ হোক এই যুদ্ধ।