রিভার্স সুইং? উলোটপুরাণ? নাকি গোটা পুরাণই উল্টে গিয়েছে? বাঁকুড়ার বিজেপি নেতৃত্বে অভিযোগ, চক্রান্ত করে বৈধ নাম বাদ দিচ্ছে তৃণমূল। এবং সেই কারণে, দলের মণ্ডল সহসভাপতি তাঁর সতীর্থদের নিয়ে ব...
রিভার্স সুইং? উলোটপুরাণ? নাকি গোটা পুরাণই উল্টে গিয়েছে?
বাঁকুড়ার বিজেপি নেতৃত্বে অভিযোগ, চক্রান্ত করে বৈধ নাম বাদ দিচ্ছে তৃণমূল। এবং সেই কারণে, দলের মণ্ডল সহসভাপতি তাঁর সতীর্থদের নিয়ে বিডিও দফতরের সামনে ধর্নায় বসলেন।
কেন এই অভিযোগ?
বাঁকুড়া-১ নম্বর ব্লক কার্যালয়ের সামনে সপারিষদ ধর্নায় বসেছেন বিজেপির ওই স্থানীয় মণ্ডল সহ সভাপতি রাকেশ চট্টরাজ। জগদল্লা গ্রামের বাসিন্দা, ৩০১ নম্বর বুথের ভোটার বিজেপির বাঁকুড়া-৪ মণ্ডল সহ সভাপতি রাকেশের দাবি, কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী এসআইআরের এনুমারেশন ফর্মের সঙ্গে তিনি প্রয়োজনীয় নথি জমা দেন। পরে শুনানিতে ডাকা হলে সেখানেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে হাজির হন তিনি। কিন্তু চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, তাঁর বাবা ধরণী চট্টরাজ, মা রেখা চট্টরাজের নাম ঠিকঠাক থাকলেও তাঁর নামে পাশে লেখা রয়েছে 'ডিলিটেড'! আর এই ঘটনায় শাসক দলের হাত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে জয়েন্ট বিডিও তাঁর সঙ্গে কথা বললেও তিনি সন্তুষ্ট নন। তাঁর অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে, "চক্রান্ত করেই আমার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল চাইছে, বিজেপির নেতাকর্মীদের নাম যাতে না-থাকে তালিকায়। আর ওদের কথায় প্রশাসন, ইআরও, এইআরও, বিজেপির বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিয়েছে"।
বাঁকুড়া-১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি অংশুমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, "আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি, একজন বৈধ ভোটারও যেন বাদ না-পড়েন। এই দাবিতে আমরা পথে নেমেছি। আন্দোলন করেছি। এখন নিজের নাম বাদ গিয়েছে বলে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন ওই বিজেপি নেতা। ওঁর জেনে রাখা উচিত, ওই বুথে আরও ৮ জনের নাম বাদ গিয়েছে। রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তাঁদের হয়েও আন্দোলনে নামা উচিত তাঁর"।
'বাদ'-বিবাদ
বাংলায় এসআইআর-পর্ব প্রাথমিকভাবে শেষ হয়েছে। এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। এমতাবস্থায়, ৬৩ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ মৃত, কেউ স্থানান্তরিত, ডুপ্লিকেট বা একইসঙ্গে দুই জায়গায় নাম রয়েছে এবং শুনানিতে গরহাজির। এছাড়াও কমবেশি ৬০ লক্ষের ভোট-ভবিষ্যৎ এখন সুপ্রিম-নির্দেশে বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION)। রাজ্যের শাসক দল ধারাবাহিকভাবে কমিশন আর বিজেপিকে একই বন্ধনীতে ফেলে অভিযোগ করছে, চক্রান্ত করে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এমতাবস্থায়, বিজেপি নেতার মুখে একই অভিযোগ যেন উলটপুরাণের মতো শোনাচ্ছে, "চক্রান্ত করে বৈধ নাম বাদ দিচ্ছে তৃণমূল"।
রিভার্স সুইং?