মুখ্যমন্ত্রীর পুজো-উদ্বোধনের তালিকায় সবার প্রথমে যে-ক্লাবের নাম থাকে, যে-ক্লাবের আলোকসজ্জায় দমদম থেকে বিমানের ওঠানামা প্রভাবিত হয়, শান ও জিৎ-এর জুটি যে-ক্লাবের বিজয়া সম্মিলনীর হোর্ডিংজুড়ে থাকে, তার নাম শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব। এবং সেই ক্লাবের কর্ণধারের নাম সুজিত বসু। শুক্রবার বিধাননগর-লেকটাউন-কালিন্দী অঞ্চলের সেই বিধায়ক-মন্ত্রীর দফতরে তল্লাশি অভিযানে নামল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি।
এমতাবস্থায় প্রশ্ন এক ও একাধিক। শুক্রবারের তল্লাশি অভিযানে যদি কোনও 'অঘটন' ঘটে, তাহলে কি শনিবারের বিজয়া সম্নিলনীর সুর কাটবে? সংগীত শিল্পী শান ও জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের অনুষ্ঠান কি স্থগিত হয়ে যাবে?
যদিও নেট নগরীর বাসিন্দারা বলছেন, 'তল্লাশি-ই সার, কাজের কাজ কিছু হবে না'।
'কাজের কাজ' বলতে?
অয়ন শীলের সৌজন্যে রাজ্যজুড়ে যে পুর-নিয়োগ দুর্নীতি হয়েছে, তার তদন্তে নেমে ইডি-সিবিআই যতই তল্লাশি চালাক-না কেন, পরিণতি একটাই: 'কিস্যু হবে না'। ২০২৪-এর জানুয়ারি মাসে সুজিত বসুর বাড়িতে সকাল থেকে রাত অবধি তল্লাশি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা। দিনভর টানটান সাসপেন্সের মধ্যে রেখে ক্লাইম্যাক্সে পৌঁছিয়ে শূন্য হাতে ফিরে এসেছিলেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। এমতাবস্থায়, 'কাজের কাজ' বলতে নেটপাড়া যা বোঝাতে চাইছে, কোনও হাইপ্রোফাইল নেতা-মন্ত্রীর গ্রেফতারি। শুক্রবার সুজিত বসুর দফতর ও তাঁর সতীর্থদের বাড়িতে তল্লাশি চালালেও, সূর্য পাটে যাওয়ার সঙ্গে-সঙ্গেই তদন্তকারী আধিকারকিদের কনভয় হু-উ-শ করে বেরিয়ে যাবে চোখের সামনে দিয়ে। অন্তত তেমনটাই মনে করছেন নেট নাগরিকরা। এমনকি, তাঁদের যা বক্তব্য, খোদ বিধায়ক-মন্ত্রীরও একই বক্তব্য: ভোট এলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সক্রিয়তা বাড়ে।
শুক্রবার ইডি-র তল্লাশি শুরু হওয়ার পর সাংবাদমাধ্যমের সামনে দৃশ্যতই আত্মবিশ্বাসী সুজিত কার্যত বুঝিয়ে দিলেন: কেউ কিস্যু করতে পারবে না।
তাহলে কেন ফের অভিযান?
নেট নগরীর বাসিন্দারা এর যুতসই এক ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। যা আদতে রাজ্যের বাম শিবিরেরও বক্তব্য। ভোটের আগে 'সেটিং তত্ত্ব'কে কিছুটা দুর্বল করে দিতেই এই 'লোকদেখানো অভিযান'। নইলে, আরজিকর-কাণ্ডে খুন-ধর্ষণের মামলায় সিবিআই যে 'অসামান্য' তদন্ত করেছে, তাকে সামনে 'মোদী-দিদির সেটিং' নিয়ে প্রচারে ঝড় তুলবে বামেরা। আর, তার পরিণতিতে বিরোধী ভোট ভাগাভাগি হয়ে যাবে। বঙ্গ-বিজেপির মার্কশিটে ফের 'লাল'-দাগ পড়ে যাবে।
এই তো কিছুদিন আগের কথা। বলা নেই, কওয়া নেই, হঠাৎ করে তৃণমূল বিধায়ক সুদীপ্ত রায়ের সিঁথির বাড়ি ও চেম্বারে হানা দিল কেন্দ্রীয় সংস্থা। আরজিকর-কাণ্ডে আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে নাম জড়িয়ে গিয়েছিল শাসকদলের ওই প্রভাবশালী বিধায়কের। তল্লাশি চলল কলকাতার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষের বাড়িতেও। কিন্তু দিনভর তল্লাশির পর শেষ অবধি একটা ফ্লপ-শো উপহার দিল কেন্দ্রীয় সংস্থা।
যদিও, বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ফের তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায়। তবে, 'কাদায় পড়া' জীবনকৃষ্ণ যে কোনও হাইপ্রোফাইল নেতা নন, তা সবাই বোঝে। এমতাবস্থায়, কেন্দ্রীয় সংস্থা 'প্রভাবশালী' সুজিত বসুর দফতরে গিয়ে বুড়ি ছুঁয়ে এলে, সেটিং-তত্ত্বে কতটা ফাটল ধরবে, তা নিয়ে সংশয়ী বঙ্গবিজেপির একাংশ।
এখন বরং গান-বাজনার মধ্যেই থাকা যাক, বলছে নেটনগরী।