নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে একই বন্ধনীতে ফেলে রাজ্যের শাসকদল অভিযোগ করে আসছে, এসআইআর আদতে মুসলিমদের নাম বাদ দেওয়ার কৌশল। অন্যদিকে, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা গোড়া থেকে বলে আসছেন, ১ কোটিরও বেশি বাংলাদেশি...
নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে একই বন্ধনীতে ফেলে রাজ্যের শাসকদল অভিযোগ করে আসছে, এসআইআর আদতে মুসলিমদের নাম বাদ দেওয়ার কৌশল। অন্যদিকে, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা গোড়া থেকে বলে আসছেন, ১ কোটিরও বেশি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর নাম বাদ যাবে। এমতাবস্থায়, আইন-আদালত পেরিয়ে এসে ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। এবং সেই সঙ্গে বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION) ৬০ লক্ষের ভোটভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। যার প্রতিবাদে একদিকে যেমন ধর্নায় বসেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে তেমন পথে নেমেছে বাম-কংগ্রেসও। এই পরিস্থিতিতে, তারকেশ্বরের চাঁপাডাঙায় যা ঘটেছে, তা রীতিমতো বিস্ময়কর।
কী ঘটেছে?
চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশির নাম!অন্যদিকে, বৈধ ১৪০ জন ভোটার বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION)। এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তারকেশ্বরের বেঁড়েমুল এলাকার বাসিন্দাদের।
তারকেশ্বরের চাঁপাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের ১২৫ নম্বর বুথের ভোটার সংখ্যা ৫৯৫ জন। তার মধ্যে বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION) অবস্থায় রয়েছে ১৪০ জনের নাম। এই ১৪০ জনই মুসলিম সম্প্রদায়ের। তাঁদের মধ্যে আবার ৫০ জনের নাম আছে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায়। শুনানিতে ডাকা হয়েছিল ১৪০ জনকেই। এবং নির্বাচন কমিশনের চাওয়া নথি বা তথ্যের মধ্যে অন্ততপক্ষে একটি হলেও তাঁরা জমা দিয়ছেন। তবু তাঁদের ভোটভাগ্য অনিশ্চিত!
এখানেই শেষ নয়
অভিযোগ, চূড়ান্ত তালিকায় এলাকার একজন বাংলাদেশি মুসলিমের নাম রয়েছে! ২০০২ সালে নাম থাকা এক ব্যক্তিকে বাবা সাজিয়ে ওই বাংলাদেশি ব্যক্তি ভোটার তালিকায় নাম তুলিয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। প্রশ্ন তুলেছেন নির্বাচন কমিশনের কাণ্ডজ্ঞান নিয়ে। এমতাবস্থায়, বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION) ১৪০ জনের নাম ভোটার তালিকায় না-উঠলে গোটা গ্রাম ভোট বয়কট করবে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
মুসলিম: ওপার বাংলা এপার বাংলা
তৃণমূলের অভিযোগ, মুসলিম বলেই ১৪০ জনের নাম বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION) । এবং কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের 'চক্রান্তে'ই এই ঘটনা ঘটেছে।
যদিও পর্যবেক্ষকদের প্রশ্ন, তা-ই যদি হবে, তাহলে বাংলাদেশি মুসলিমের নাম থাকবে কেন তালিকায়?
বিজেপির এর জন্য তৃণমূলকেই দায়ী করছে। তাদের দাবি, এটা তৃণমূলের চক্রান্ত, কারণ রাজ্যের অধীনে কাজ করা আধিকারিকরাই এসআইআর প্রক্রিয়ায় যুক্ত থেকেছেন। মুসলিমদের বোকা বানাচ্ছে তৃণমূল। এবং সেই কারণে, সেখানে যে বাংলাদেশির নাম চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছে, তার দায়ও রাজ্যের উপরই বর্তায়।