জঙ্গিযোগ সন্দেহে এবার এসটিএফের জালে ধৃত হামিমের আরও এক সঙ্গী। ধৃতের নাম আদিত্য সিংহ ওরফে রাজ। হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডের বাসিন্দা তিনি। উমেশচন্দ্র কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সে। সূত্রের দাবি, হামিমের সঙ...
জঙ্গিযোগ সন্দেহে এবার এসটিএফের জালে ধৃত হামিমের আরও এক সঙ্গী। ধৃতের নাম আদিত্য সিংহ ওরফে রাজ। হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডের বাসিন্দা তিনি। উমেশচন্দ্র কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সে। সূত্রের দাবি, হামিমের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচয় ছিলআদিত্যর। এমনকি হাওড়ায় রাজ্যের মন্ত্রী উমেশ রাইকে খুনের হুমকি দিয়ে যে ফোন করা হয়েছিল, তার সঙ্গেও রাজের যোগ রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, মন্ত্রী উমেশ রাইয়ের ওপর নজরদারি চালাত আদিত্য। মন্ত্রীর গতিবিধি, এমনকি তাঁর ছেলের গাড়ি-বাড়ির ছবি-ভিডিয়ো তুলেও হামিমকে পাঠাত ধৃত কলেজ পড়ুয়া। এমতাবস্থায় তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, কেবল কি মন্ত্রীর ছেলের নানাবিধ তথ্য সংগ্রহ করছিল হামিম-আদিত্য, নাকি আরও কেউ ছিল তাঁদের টার্গেটে? পাশাপাশি এই তথ্য সংগ্রহ করার উদ্দেশ্য কি ছিল, তাও জানার চেষ্টা চলছে।
সূত্রের খবর, রাজ্যের নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশকে পাকিস্তান থেকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। দাবি, মন্ত্রীকে খুনের এবং তাঁর পুত্রকে অপহরণ করার কথা বলা হয়েছিল। ফোন করেছিলেন আবিদ জাঠ নামের এক ব্যক্তি। অভিযোগ, মন্ত্রী এবং তাঁর পরিবারের সমস্ত তথ্য তাঁদের কাছে রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন আবিদ। প্রথমে এই হুমকি-ফোনকে উমেশ তেমন পাত্তা দেননি। পরে পুলিসকে বিষয়টি জানান। গোটা ঘটনার তদন্তভার যায় এসটিএফের হাতে। সেই তদন্তের সূত্রেই বর্ধমান থেকে গ্রেফতার করা হয় হামিমকে।
পুলিস সূত্রে আরও চাঞ্চল্যকর খবর, হাওড়ায় রাজ্যের মন্ত্রী উমেশ রাইকে খুনের হুমকি দিয়ে যে ফোন করা হয়েছিল, তার সঙ্গে এই আদিত্যের যোগ রয়েছে। তিনিই মন্ত্রীর বিভিন্ন তথ্য হামিমকে দিয়েছিলেন। মন্ত্রীর ছবি, গতিবিধি সংক্রান্ত বিভিন্ন খুঁটিনাটি সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে তাঁর যোগ ছিল বলেও পুলিসের সন্দেহ। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সোমবার ভোরে আদিত্যের বাড়িতে যায় পুলিস। পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন তদন্তকারীরা। তাঁর ঘরে তল্লাশিও চালানো হয়। আদিত্যের মায়ের দাবি, 'আমার ছেলে পড়াশোনা করে। কেন ওকে নিয়ে গেল, কার সঙ্গে কী কথা বলত, আমরা কিচ্ছু জানি না।'