বাংলার প্রশাসনিক মানচিত্রে শুরু হল নতুন অধ্যায়। একসঙ্গে পাঁচটি নতুন জেলার ঘোষণা করল রাজ্যের বিজেপি সরকার। শুধু জেলা নয়, তৈরি হচ্ছে নতুন মহকুমা, নতুন পুলিশ জেলা, একাধিক পুরসভা এবং প্রশাসনিক কেন্দ্র। সো...
বাংলার প্রশাসনিক মানচিত্রে শুরু হল নতুন অধ্যায়। একসঙ্গে পাঁচটি নতুন জেলার ঘোষণা করল রাজ্যের বিজেপি সরকার। শুধু জেলা নয়, তৈরি হচ্ছে নতুন মহকুমা, নতুন পুলিশ জেলা, একাধিক পুরসভা এবং প্রশাসনিক কেন্দ্র। সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করতে গিয়ে এই ঐতিহাসিক ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।
নতুন জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে কলকাতা, বসিরহাট, সুন্দরবন, জঙ্গিপুর এবং আরামবাগ। প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ এবং মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এছাড়াও কাঁথিতে গঠিত হবে নতুন পুলিশ জেলা। পশ্চিম মেদিনীপুরের গোপীবল্লভপুরে তৈরি হবে নতুন মহকুমা। একইসঙ্গে নতুন পুরসভা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে শিবনিবাস, গাজোল, টাল, বেলদা, বাগানান, জয়গী, কোলাঘাট, কামারপুকুর এবং টুঙ্গিপাড়ির নাম।
তবে এই ঘোষণার পর সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছে আরামবাগে। দীর্ঘদিন ধরেই আরামবাগকে পৃথক জেলা করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন এলাকার মানুষ। স্বাধীনতার পর থেকে বারবার বন্যা ও ভৌগোলিক সমস্যার মুখোমুখি হওয়া এই অঞ্চল অবশেষে পেল আলাদা জেলার মর্যাদা। বাজেট ঘোষণার পরই আরামবাগ শহরে শুরু হয় উদযাপন। বাজারে বাজারে লাড্ডু বিতরণ, পথচলতি মানুষকে মিষ্টিমুখ করানো, আবির খেলায় মেতে ওঠেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।
গোঘাটেও দেখা যায় অকাল হোলির আবহ। রঙ খেলায় এবং মিষ্টি বিতরণে মেতে ওঠেন সাধারণ মানুষ। অনেকেই এই সিদ্ধান্তকে ‘দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ’ বলে অভিহিত করেছেন। খুশির আবহ বসিরহাটেও। সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলের মানুষ বহুদিন ধরেই পৃথক জেলার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। নতুন জেলা ঘোষণার পর সেখানেও শুরু হয়েছে আনন্দ-উৎসব। বিভিন্ন জায়গায় মিষ্টি বিতরণ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের ছবি সামনে এসেছে।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, আগামী ছয় মাসের মধ্যে নতুন জেলা ও প্রশাসনিক ইউনিটগুলির জন্য জমি চিহ্নিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির কাজ শুরু হবে। নতুন জেলা গঠনের ফলে প্রশাসনিক কাজের গতি যেমন বাড়বে, তেমনই সাধারণ মানুষের সরকারি পরিষেবা পাওয়াও আরও সহজ হবে বলে মনে করছে রাজ্য সরকার। বদলের বাংলায় এ যেন শুধু নতুন জেলার ঘোষণা নয়, বরং নতুন প্রশাসনিক মানচিত্র গড়ার সূচনা— এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।