"আমি যখন দলের রাজ্য সভাপতি ছিলাম, তখন রাজ্যে পার্টির ভোট শেয়ার ১.৭২ শতাংশ, যখন ছেড়েছি তখন ৩৪ শতাংশ ভোট শেয়ার", রাজ্যসভায় দলের তরফে মনোনয়ন পেয়ে বঙ্গ-বিজেপির 'আদি' নেতা রাহুল সিনহা যেন ক্ষোভ উগরে দ...
"আমি যখন দলের রাজ্য সভাপতি ছিলাম, তখন রাজ্যে পার্টির ভোট শেয়ার ১.৭২ শতাংশ, যখন ছেড়েছি তখন ৩৪ শতাংশ ভোট শেয়ার", রাজ্যসভায় দলের তরফে মনোনয়ন পেয়ে বঙ্গ-বিজেপির 'আদি' নেতা রাহুল সিনহা যেন ক্ষোভ উগরে দিলেন। এবং সেইসঙ্গে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দিলেন, "দল কারুকে ভোলেনি, কার্যকর্তাদের মধ্যে যাঁরা বসে রয়েছেন, হতাশ হয়েছেন, তাঁদের কাছেও এবার বার্তা যাবে"।
কী বার্তা?
তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ মাঝেমধ্যেই রাজনৈতিক রসিকতা করে বলেন, বঙ্গবিজেপিতে দুটি শিবির রয়েছে, একটি 'আদি' আর অন্যটি 'তৎকাল'। বাংলায় বিজেপি সদর দফতরে যখন ধুপধুনো দেওয়ার মতো কেউ ছিল না, তখন যাঁরা দলের প্রতি নিবেদিত প্রাণ ছিলেন, তাঁদের অন্যতম রাহুল সিনহা। কিন্তু, কালক্রমে যখন তৃণমূল থেকে নাগারে বিজেপিতে যাওয়া শুরু হল, তখন সেই 'তৎকাল'দের জায়গা করে দিতে 'আদি'দের কার্যত পাত্তাই দেওয়া হয়নি বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা। এমতাবস্থায়, একুশের বিধানসভায় মুখ থুবড়ে পড়ার পর চব্বিশের লোকসভায় বাংলায় নিজেদের আসন পর্যন্ত ধরে রাখতে পারেনি বিজেপি। এমতাবস্থায়, পঁচিশের মাঝামাঝি যখন ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের অকালবোধন শুরু হল, তখন থেকেই খেলা ঘুরতে শুরু করল। দলে কোণঠাসা দিলীপ ঘোষকে অপ্রত্যাশিতভাবে ডেকে নেন দলের সর্বভারতীয় সেনাপতি অমিত শাহ। এবং তারপর থেকে ফের পুরনো ফর্মে ফিরতে দেখা যায় রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতিকে। শাহী-বার্তায় ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে, পুরনো ও নতুনদের মধ্যে কোনওরকম ভেদাভেদ চলবে না, কোনওরকম গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বরদাস্ত করা হবে না। ছাব্বিশের হাইভোল্টেজ ভোটে বাংলা জয় করতে গেলে 'আদি' ও 'নব্য' ('তৎকাল')-ক সেতুবন্ধন যে খুবই জরুরি, সেই বার্তা দিতেই রাহুল সিনহার মতো আদি নেতাকে একেবারে অপ্রত্যাশিতভাবে রাজ্যসভায় মনোনয়ন দিল বিজেপি। এবং, রাহুলের কাছ থেকে দলের বসে যাওয়া 'আদি' নেতারাও বার্তা পেলেন, "দল কারুকে ভোলেনি, ভোলে না, তাই হতাশ হওয়ার কিছু নেই"।
চব্বিশের লোকসভার পর বঙ্গবিজেপিতে 'কোণঠাসা' হয়ে যাওয়া নেতা দিলীপ ঘোষ শাহি-আমন্ত্রণ পেয়ে রীতিমতো আগের ফর্মে ফিরে এসেছেন। সোমবার কালিয়াগঞ্জে সেই পুরনো ফর্মেই চায়ের ভাঁড়ে চুমুক দিয়ে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে তাঁকে বলতে শোনা গেল, "এখন তো উল্টো হয়ে গিয়েছে, মানুষ আমাদের বার্তা দিয়ে বলছে, পরিবর্তন চাই"।