বাংলাদেশের ছায়া পশ্চিমবঙ্গেও। ওয়াকফ আইনের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র মুর্শিদাবাদ। কোথাও চলল বহুজাতিক শপিং মলে অবাধে লুটপাঠ। কোথাও চলল গুলি। কোথাও বা চালানো হল ভাঙচুর। প্রাণ বাঁচাতে দোকানে আশ্র...
বাংলাদেশের ছায়া পশ্চিমবঙ্গেও। ওয়াকফ আইনের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র মুর্শিদাবাদ। কোথাও চলল বহুজাতিক শপিং মলে অবাধে লুটপাঠ। কোথাও চলল গুলি। কোথাও বা চালানো হল ভাঙচুর। প্রাণ বাঁচাতে দোকানে আশ্রয় নিল পুলিস।
ওয়াকফ আইনের বিরোধিতায় ভয়াবহ পরিস্থিতি মুর্শিদাবাদ জুড়ে। এই বাংলাতেও বাংলাদেশের ছায়া। লুটপাঠ চলল বহুজাতিক শপিং মলে। আবার কোথাও চলল গুলি। কোথাও বা চালানো হল ভাঙচুর। সবমিলিয়ে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি মুর্শিদাবাদ জুড়ে।
ওয়াকফ আইনের বিরোধিতায় শুক্রবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জের ডাকবাংলো এলাকা। জঙ্গিপুরের পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সামসেরগঞ্জ। ডাকবাংলো মোড় থেকে সুতির সাজুর মোড় অবধি ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে জনতা। পুলিসকে লক্ষ্য করে শুরু হয় ইট বৃষ্টি। লাঠিচার্জ করে পুলিস। এরপরে বোমা পড়ে বলেও অভিযোগ। প্রাণ বাঁচাতে স্থানীয় দোকানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় পুলিস। বিক্ষোভকারীরা বাইক থেকে শুরু করে সরকারি, বেসরকারি বাস পুড়িয়ে দেয়। অভিযোগ, আগুন জ্বালানো হয় অ্যাম্বুল্যান্সেও। সূত্রের খবর মোট ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ ৫০ লক্ষ টাকা।
পরিস্থিতি সামলাতে নামানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের। শনিবার, সকাল থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে এলাকায় বিশাল পুলিস বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। এদিকে গোটা ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ২ জন হাসান শেখ ও গোলাম উদ্দিন শেখ। দুজনেরই বাড়ি সামশেরগঞ্জ থানা এলাকায়। চিকিৎসার জন্য তাঁদের জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে কে বা কারা গুলি চালিয়েছেন তা এখনও স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে ওয়াকফ আইনের বিরোধিতায় এই আন্দোলনের ঝাঁঝ এতটাই বেড়ে যায় যে মুর্শিদাবাদের ফারাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলামের বাড়িতেও হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। বিধায়কের বাড়ির প্রধান গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টা করা হয়। পরে পুলিস গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। যদিও বিধায়ক সকলকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।
এদিকে বারবার পুলিসের ওপর আক্রমণের ভূমিকায় প্রশ্নের মুখে রাজ্য প্রশাসন সহ পুলিসের ভূমিকা। চাকরিহারাদের পেটে-পিঠে লাঠি-লাথি মারা পুলিস যেভাবে জঙ্গিপুরে, আমতলায় সুতিতে প্রাণ বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। জঙ্গিপুরের ঘটনার পরেও পুলিস-প্রশাসন কেন শিক্ষা নেয়নি? এই প্রশ্নও উঠছে। আর এই নিয়ে রাজ্য প্রশাসন ও পুলিসকে তীব্র খোঁচা বিজেপির রাজ্য সভাপতির। অপদার্থ বলে আক্রমণ সুকান্তর।
ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদের অশান্ত পরিস্থিতি নিয়ে গুজব না ছড়িয়ে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়ে শনিবার এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করা হয়েছে রাজ্য পুলিসের তরফে। একদিকে চাকরিহারাদের আন্দোলন। শাসকের দুর্নীতির কারণে ভেঙে পড়েছে বাংলার শিক্ষা কাঠামো। আদৌ কি শান্ত হবে পরিস্থিতি? নাকি এই অশান্তিকেই ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে ব্যবহার করবে বাংলার শাসক? থাকছে প্রশ্ন।