দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্থিতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হলেন ৪৪ বছর বয়সী রফিক আলি গাজি। পরিবারের দাবি, চূ়ড়ান্ত তালিকায় নিজের নামের উপর বিবেচনাধীন ( UNDER ADJUDICATION) লেখা চোখে পড়তেই প্রবল অবসাদে ভু...
দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্থিতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হলেন ৪৪ বছর বয়সী রফিক আলি গাজি। পরিবারের দাবি, চূ়ড়ান্ত তালিকায় নিজের নামের উপর বিবেচনাধীন ( UNDER ADJUDICATION) লেখা চোখে পড়তেই প্রবল অবসাদে ভুগতে থাকেন তিনি। শেষ অবধি আত্মঘাতী হন।
এদিন রফিকের দেহ নিয়ে পথ অবরোধ করে তৃণমূল। নির্বাচন কমিশন ও জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে স্লোগান দেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, ন্যায়বিচার চাই। যদিও প্রশ্ন, নামের উপর বিবেচনাধীন ( UNDER ADJUDICATION) থাকা মানেই 'বাদ' যাওয়া নয়, তা সত্ত্বেও কেন আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন রফিক। তৃণমূল কর্মীদের দাবি, তাঁকে বোঝানো হয়েছিল, কিন্তু তবুও আতঙ্ক কাটেনি।
প্রসঙ্গত, দোলের দিন সকালে জলপাইগুড়ির নয়াবস্তি এলাকায় গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় এক মোমো বিক্রেতার দেহ উদ্ধার হয় তাঁর ঘর থেকে। নাম গৌরাঙ্গ দে। পরিবারের দাবি, চূড়ান্ত তালিকায় নাম না-থাকায় আশঙ্কায় ছিলেন, বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে না তো? এবং সেই আতঙ্ক থেকেই আত্মহত্যা। খবর পেয়ে নয়াবস্তির এসআইসি কোয়াটার্সে ছুটে যান জলপাউগুড়ি পৌরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, "এখনও পর্যন্ত ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। জালিয়ানওয়ালাবাগে একটি গণহত্যা হয়েছিল। এসআইআর দ্বিতীয় জালিয়ানওয়ালাবাগ। গৌরাঙ্গ দে-র বয়স ৬২ বছর। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে তিনি ভোট দিচ্ছেন। কী করে তাঁর নাম বাদ দেয় কমিশন"?
জলপাইগুড়ির পর এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা। উস্থি থানার ঘোলা নোয়াপাড়া এলাকার ঘটনা। পুলিস সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাড়ির মধ্যে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন রফিক আলি গাজি নামের ওই ব্যক্তি।
বাংলায় এসআইআর-পর্ব প্রাথমিকভাবে শেষ হয়েছে। এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। এমতাবস্থায়, ৬৩ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ মৃত, কেউ স্থানান্তরিত, ডুপ্লিকেট বা একইসঙ্গে দুই জায়গায় নাম রয়েছে এবং শুনানিতে গরহাজির। এছাড়াও কমবেশি ৬০ লক্ষের ভোট-ভবিষ্যৎ এখন সুপ্রিম-নির্দেশে বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION)। এঁদের ভোটভাগ্য এখনও অনিশ্চিত। এই ৬০ লক্ষের মধ্যে কতজন 'যোগ্য' ভোটার, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচারক তথা বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। এছাড়াও রয়েছে 'ডিলিটেড ভোটার'। তারা অবশ্য চাইলে আবেদন করতে পারে। কিন্তু, আবেদন-নিবেদনের আগেই আতঙ্কিত হয়ে আত্মঘাতী হচ্ছেন কেউ কেউ।