অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়শনিবার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরই বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION) ৬০ লক্ষের ভোটভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে যায়। পরেরদিন, রবিবার বিকেলে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সা...
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
শনিবার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরই বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION) ৬০ লক্ষের ভোটভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে যায়। পরেরদিন, রবিবার বিকেলে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠক করে ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীনের ভোট-ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। সহজ পাটিগণিতের অঙ্ক কষে অভিশেকের বক্তব্য, "বিচারবিভাগীয় আধিকারিক বা বিচারকেরাও তো মানুষ। তাঁদের কাছে তো কোনও জাদুকাঠি নেই। অথবা সফটওয়ার নেই। ৬০ লক্ষ নাম বিবেচনাধীন। খুব বেশি হলে ৫০০ জন বিচারক কাজ করছেন। প্রতিদিনে যদি ২০ থেকে ৩০ টি নাম নিয়ে নিষ্পত্তি করেন, তাহলে খুব বেশি হলে দিনে ১০ থেকে ১৫ হাজার নিষ্পত্তি করা যাবে। আমি না-হয় ২০ হাজার ধরে নিলাম। তাহলে ৬০ লক্ষ নাম নিষ্পত্তি করতে কত সময় লাগবে? নেই-নেই করে ৪ মাস। মার্চ, এপ্রিল, মে, জুন লেগে যাবে। তাহলে নির্বাচন হবে কী করে? মে মাসের ৫ তারিখের মধ্যে যদি নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করতে হয়, তাহলে মার্চের ২০ তারিখের মধ্যে নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করতে হবে। আজ ১ তারিখ। ২০ দিনের মধ্যে কি ৬০ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি সম্ভব?"
বিমান বসু
বর্ষীয়ান বামনেতা বিমান বসুর বক্তব্যও প্রায় একইরকম। কমিশন দফতরের অদূরে বামদের রাতদখলের দাবি, ৬০ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি না-হওয়া পর্যন্ত ভোট করা যাবে না। একটি মিনিডোরের উপর অশীতিপর-যুবক বিমান বসু বলেন, "৬০ লক্ষ ভোটারকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হবে? আমরা বলছি হবে না। ভোটারদের বাদ দিয়ে ভোট হবে না। তখন উনি (রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক) বললেন, এদের মধ্যে ৬ লক্ষ প্রায় নিষ্পত্তি হওয়ার মুখে। আমরা বললাম, ৬০ লক্ষের মধ্যে ৬ লক্ষ তো নস্যি। তাহলে বাকিদের নাম নিষ্পত্তি করতে কতদিন লাগবে? যাঁর বাবা-মা ভোটার, তাঁর ছেলে কী করে বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION) থাকে? উনি বললেন, কোনও কোনও বিএলও, ইআরও, ডিইও-রা কিছু সমস্যা তৈরি করেছেন। সবাই নন। কেউ কেউ। আমি প্রশ্ন করলাম, তখন পদক্ষেপ করেননি কেন? উনি বললেন, উনি পদক্ষেপ করেছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, বাইরে কয়েকশো বিএলও বিক্ষোভ করছেন, দিনে, রাতে, তাহলে কাজটা কী করে হল? উনি বললেন, ওঁদের মধ্যে মাত্র ৫ জন বিএলও"!
অধীর চৌধুরী
কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর স্পষ্ট কথা, "যতজন বিচারক লাগে লাগুক। কিন্তু ৬০ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি না-করে ভোট ঘোষণা করা চলবে না। তাঁরা ভোট দিতে পারছেন না তাঁদের ভুলে নয়, এই ব্যবস্থার ভুলে। কোথায় বানান ভুল, তাতে তাঁরা কী করবে? সমস্যা হলে তাঁদের বাড়ি-বাড়ি যাক কমিশনের প্রতিনিধিরা, দরকার হলে আরও সময় নিক কমিশন। কোনও অবস্থাতেই বাংলার মানুষের সাংবিধানিক অধিকার, ভোটদানের অধিকার কেড়ে নেওয়া চলবে না"।
আরও ২০০ জন বিচারক
রাজ্য ও কমিশনের মধ্যে পারস্পরিক অনাস্থা ও অবিশ্বাসের আবহে সুপ্রিম কোর্ট নজিরবিহীন এক নির্দেশ দেয়। তালিকায় থাকা যেসব নাম নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না, সেইসব নাম নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিচারক ও বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা। সুপ্রিম-নির্দেশিকা অনুযায়ী কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারক সুজয় পাল সব পক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এবং তার অব্যবহিত পরেই তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নজরে আনেন একটি বিষয়। এবং তা হল, যতজন বিচারক এই কাজে যুক্ত রয়েছেন, তাঁরা দিনরাত এক করে দিলেও ৬০ লক্ষ নাম নিষ্পত্তি করতে পারবেন না। এমতাবস্থায়, সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, প্রয়োজনে পড়শি রাজ্য ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে বিচারকদের এই কাজে নিযুক্ত করা যাবে। এবং সেই মতো ভিনরাজ্যের বিচারকদের কোন পদ্ধতিতে বাংলায় এসআইআর সংক্রান্ত কাজে যুক্ত করা যায়, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করে কমিশন। এমতাবস্থায়, ভিনরাজ্য থেকে ২০০ জন বিচারক এদিন রাজ্যে আসছেন বলে কমিশন-সূত্রে খবর। এবং শুধু তা-ই নয়। কমিশন মনে করছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৬০ লক্ষ নাম নিয়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। এবং মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত তালিকায় নাম তোলা যাবে।