চূড়ান্ত তালিকায় নামের উপর বিবেচনাধীন ( UNDER ADJUDICATION) লেখা। এবং সেই 'আতঙ্কে' উস্তিতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি।বাংলায় এসআইআর-পর্ব প্রাথমিকভাবে শেষ হয়েছে। এবং চূড়ান্ত তালিক...
চূড়ান্ত তালিকায় নামের উপর বিবেচনাধীন ( UNDER ADJUDICATION) লেখা। এবং সেই 'আতঙ্কে' উস্তিতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি।
বাংলায় এসআইআর-পর্ব প্রাথমিকভাবে শেষ হয়েছে। এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। এমতাবস্থায়, ৬৩ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ মৃত, কেউ স্থানান্তরিত, ডুপ্লিকেট বা একইসঙ্গে দুই জায়গায় নাম রয়েছে এবং শুনানিতে গরহাজির। এছাড়াও কমবেশি ৬০ লক্ষের ভোট-ভবিষ্যৎ এখন সুপ্রিম-নির্দেশে বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION)। এদের ভোটভাগ্য এখনও অনিশ্চিত। এই ৬০ লক্ষের মধ্যে কতজন 'যোগ্য' ভোটার, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচারক তথা বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। এছাড়াও রয়েছে 'ডিলিটেড ভোটার'। তারা অবশ্য চাইলে আবেদন করতে পারে। কিন্তু, আবেদন-নিবেদনের আগেই আতঙ্কিত হয়ে আত্মঘাতী হচ্ছেন কেউ কেউ।
দোলের দিন সকালে জলপাইগুড়ির নয়াবস্তি এলাকায় গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় এক মোমো বিক্রেতার দেহ উদ্ধার হয় তাঁর ঘর থেকে। নাম গৌরাঙ্গ দে। পরিবারের দাবি, চূড়ান্ত তালিকায় নাম না-থাকায় আশঙ্কায় ছিলেন, বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে না তো? এবং সেই আতঙ্ক থেকেই আত্মহত্যা। খবর পেয়ে নয়াবস্তির এসআইসি কোয়াটার্সে ছুটে যান জলপাউগুড়ি পৌরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, "এখনও পর্যন্ত ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। জালিয়ানওয়ালাবাগে একটি গণহত্যা হয়েছিল। এসআইআর দ্বিতীয় জালিয়ানওয়ালাবাগ। গৌরাঙ্গ দে-র বয়স ৬২ বছর। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে তিনি ভোট দিচ্ছেন। কী করে তাঁর নাম বাদ দেয় কমিশন"?
জলপাইগুড়ির পর এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা। উস্তি থানার ঘোলা নোয়াপাড়া এলাকার ঘটনা। মৃতের নাম রফিক আলি গাজি, বয়স ৪৪ বছর। পুলিস সূত্রে জানা যায়, চূড়ান্ত তালিকায় নামের পাশে 'আন্ডার এড জুডিকেশন' থাকায় আতঙ্কে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাড়ির মধ্যে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন রফিক। আলি গাজি নামের ওই ব্যক্তি।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শনিবার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর রাজ্যের শাসকদলের আশঙ্কা সত্যি হয়। বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION) ৬০ লক্ষের ভোটভাগ্য অনিশ্চিত হয়। খসড়ায় বাদ যাওয়া ৫৮ লক্ষকেও হিসেবের মধ্যে ধরছে তৃণমূল। এছাড়াও বাদ গিয়েছে (ডিলিটেড) বেশ কয়েক লক্ষ নাম। বাংলায় এসআইআর-পর্ব শুরু হওয়ার আগে ভোটার তালিকায় ছিল ৭,৬৬,৩৭,৫২৯ জনের নাম। শনিবারে চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছে ৬,৪৪,৫২,৬০৯ জনের নাম। সম্প্রতি নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুর থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শোনা যায়: ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ পড়তে চলেছে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর তেমনটাই দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করছেন পর্যবেক্ষকরা।