গান্ধীজির ডাকে ভারত ছাড়ো আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে জাপানি যুদ্ধবিমানের বোমাবর্ষণ দেখেছেন তিনি। ব্ল্যাক আউট, মন্বন্তর, মারী, দেশভাগ, দাঙ্গা সব একে-একে সব স্টেশন অতিক্র...
গান্ধীজির ডাকে ভারত ছাড়ো আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে জাপানি যুদ্ধবিমানের বোমাবর্ষণ দেখেছেন তিনি। ব্ল্যাক আউট, মন্বন্তর, মারী, দেশভাগ, দাঙ্গা সব একে-একে সব স্টেশন অতিক্রম করেছেন তিনি। তাঁর চোখের সামনেই ইংরেজরা হাওড়া ব্রিজ তৈরি করেছে। শতায়ু অতিক্রম করে ১০৪ বছর বয়সেও তাঁর মস্তিষ্ক যথেষ্ট সক্রিয়। তবে, বর্ধমানের জামালপুরের বাসিন্দা শেখ ইব্রাহিমের শরীর আর আগের মতো সাথ দেয় না, এই যা। এহেন মানুষটির নামও কমিশন প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় বিবেচনাধীন ( UNDER ADJUDICATION)!
বাংলার শস্যগোলা বর্ধমানের জামালপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার প্রত্যন্ত একটি গ্রাম বত্রিশবিঘা। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই গ্রামের ১৩৮ নম্বর বুথের ভোটার শেখ ইব্রাহিম। শতবর্ষ পেরিয়ে আসা ইব্রাহিমের জন্ম ১৩২৯ বঙ্গাব্দের মাঘ মাসে। তাঁর স্ত্রী আসেমা বেগম ১৮ বছর আগে প্রয়াত হয়েছেন। ইব্রাহিমের ছয় ছেলে ও দুই মেয়ে।
পরাধীন ভারতে জন্ম ইব্রাহিমের। স্বাধীন ভারতের প্রথম নির্বাচন (১৯৫১-৫২ সাল) থেকে শুরু করে গত লোকসভা নির্বাচন অবধিও ভোট দিয়েছেন তিনি। তবুও, এসআইআর-পর্বে দেশের নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তালিকায় তিনি বিবেচনাধীন ( UNDER ADJUDICATION)!
কিন্তু কে করবে তাঁর বিবেচনা? কে ঠিক করবে তাঁর নাম ভোটার তালিকায় থাকবে কি থাকবে না? ভারতছাড়ো আন্দোলন, স্বাধীনতা আন্দোলন ও দেশভাগের মতো কঠিন পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে যাঁকে, তিনি যোগ্য ভোটার কি না তা যাচাই করবেন কোন বিচারবিভাগীয় আধিকারিক?
বাংলায় এসআইআর শুরু হওয়ার পর শুনানি-পর্বে তাঁর ডাক পড়ে। গত ২৯ জানুয়ারি শেখ ইব্রাহিমকে সশরীরে ব্লকের বিডিও অফিসে 'শুনানি'তে হাজির হওয়ার জন্য নোটিস পাঠানো হয়। 'লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি'র কথা উল্লেখ থাকে সেই নোটিসে। সংশ্লিষ্ট বিএলও ওই নোটিস নিয়ে তাঁর বাড়িতে আসেন। এবং তারপর থেকেই তোলপাড় পড়ে যায়। কমিশনের প্রতিনিধিরা ১০৪ বছর বয়সি শেখ ইব্রাহিমের বাড়িতে গিয়ে শুনানি পর্ব সারেন। সেইসঙ্গে প্রয়োজনীয় নথিপত্রও যাচাই করে নেন। কিন্তু, এত কিছুর পরেও সদ্য প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় শেখ ইব্রাহিমের নাম বিবেচনাধীন ( UNDER ADJUDICATION)!
ছেলে শেখ রাইহান উদ্দিনের ক্ষোভ, " বাবা দেশের একজন অতি প্রবীণ নাগরিক। বর্তমানে বাবার বয়স ১০৪ বছর। তারপরেও চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় আমাদের বাবার নাম কী করে বিবেচনাধীন ( UNDER ADJUDICATION) থাকে? দেশের একজন প্রবীণ নাগরিকের কাছে এ বড় অবমাননাকর, অসম্মাজনক"।