'জোট' নিয়ে চূড়ান্ত চর্চার মধ্যেই 'বাম'দিক ঘেঁষে হাঁটতে শুরু করল আইএসএফ। বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION) ৬০ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি না-হওয়া পর্যন্ত ভোট ঘোষণা করা যাবে না, এই দাবিতে পথে নামল নওশা...
'জোট' নিয়ে চূড়ান্ত চর্চার মধ্যেই 'বাম'দিক ঘেঁষে হাঁটতে শুরু করল আইএসএফ। বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION) ৬০ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি না-হওয়া পর্যন্ত ভোট ঘোষণা করা যাবে না, এই দাবিতে পথে নামল নওশাদ সিদ্দিকির দল।
এদিন কুলপিতে আইএসএফ কর্মী সমর্থকেরা এক প্রতিবাদ মিছিল করেন। এদিনের এই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন দলের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার জেলা সভাপতি। কুলপির রমজান নগর থেকে মিছিল শুরু হয়ে তা বিডিও অফিসে শেষ হয়। আইএসএফ-এর দাবি, এখনো পর্যন্ত বহু মানুষ বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION)। যতক্ষণ-না পর্যন্ত ওইসব নামের নিষ্পত্তি হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনওভাবেই নির্বাচন ঘোষণা করা যাবে না।
সম্প্রতি কমিশন দফতরের অদূরে আচমকাই 'রাতদখলে' করে বামেরা। দাবি ওঠে, ৬০ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি না-হওয়া পর্যন্ত ভোট করা যাবে না। পরে, একটি মিনিডোরের উপর দাঁড়িয়ে বর্ষীয়ান বামনেতা বিমান বসু বলেন, "৬০ লক্ষ ভোটারকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হবে? আমরা বলছি হবে না। ভোটারদের বাদ দিয়ে ভোট হবে না। তখন উনি (রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক) বললেন, এদের মধ্যে ৬ লক্ষ প্রায় নিষ্পত্তি হওয়ার মুখে। আমরা বললাম, ৬০ লক্ষের মধ্যে ৬ লক্ষ তো নস্যি। তাহলে বাকিদের নাম নিষ্পত্তি করতে কতদিন লাগবে? যাঁর বাবা-মা ভোটার, তাঁর ছেলে কী করে বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION) থাকে? উনি বললেন, কোনও কোনও বিএলও, ইআরও, ডিইও-রা কিছু সমস্যা তৈরি করেছেন। সবাই নন। কেউ কেউ। আমি প্রশ্ন করলাম, তখন পদক্ষেপ করেননি কেন? উনি বললেন, উনি পদক্ষেপ করেছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, বাইরে কয়েকশো বিএলও বিক্ষোভ করছেন, দিনে, রাতে, তাহলে কাজটা কী করে হল? উনি বললেন, ওঁদের মধ্যে মাত্র ৫ জন বিএলও"!
গত শনিবার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরই বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION) ৬০ লক্ষের ভোটভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে যায়। পরেরদিন, রবিবার বিকেলে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠক করে ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীনের ভোট-ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। সহজ পাটিগণিতের অঙ্ক কষে অভিষেকের বক্তব্য, "বিচারবিভাগীয় আধিকারিক বা বিচারকেরাও তো মানুষ। তাঁদের কাছে তো কোনও জাদুকাঠি নেই। অথবা সফটওয়ার নেই। ৬০ লক্ষ নাম বিবেচনাধীন। খুব বেশি হলে ৫০০ জন বিচারক কাজ করছেন। প্রতিদিনে যদি ২০ থেকে ৩০ টি নাম নিয়ে নিষ্পত্তি করেন, তাহলে খুব বেশি হলে দিনে ১০ থেকে ১৫ হাজার নিষ্পত্তি করা যাবে। আমি না-হয় ২০ হাজার ধরে নিলাম। তাহলে ৬০ লক্ষ নাম নিষ্পত্তি করতে কত সময় লাগবে? নেই-নেই করে ৪ মাস। মার্চ, এপ্রিল, মে, জুন লেগে যাবে। তাহলে নির্বাচন হবে কী করে? মে মাসের ৫ তারিখের মধ্যে যদি নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করতে হয়, তাহলে মার্চের ২০ তারিখের মধ্যে নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করতে হবে। আজ ১ তারিখ। ২০ দিনের মধ্যে কি ৬০ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি সম্ভব?"