ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলায় নজিরবিহীন এক ধর্মীয় মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। এবার, নির্বাচন কমিশন ও বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও 'হিন্দু-মুসলমান' প্রশ্নে 'পক্ষপাতদুষ্ট' হওয়ার অ...
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলায় নজিরবিহীন এক ধর্মীয় মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। এবার, নির্বাচন কমিশন ও বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও 'হিন্দু-মুসলমান' প্রশ্নে 'পক্ষপাতদুষ্ট' হওয়ার অভিযোগ উঠল। সোমবার গভীর রাতে প্রকাশিত সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় বসিরহাটের বেগমপুরের একটি বুথে ৩৪০ জনের নাম 'বাদ' পড়ায় দাবি করা হল, "বেছে বেছে আমাদের (সংখ্যালঘুদের) নাম বাদ দিয়েছে, ওদের (সংখ্যাগুরুদের) নাম কিন্তু আছে"।
'হিন্দু-মুসলমান' ?
বাংলায় এসআইআর তখনও শুরু হয়নি। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা দাবি করেছিলেন, ভোটার তালিকা থেকে ১ থেকে সওয়া ১ কোটি নাম বাদ যাবে এবং যাঁদের নাম বাদ যাবে তাঁরা সব অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গা। এরপর দেখা যায়, বাংলায় এসআইআর শুরুর আগে ভোটার তালিকায় যতজনের নাম ছিল, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর কমবেশি সওয়া ১ কোটি নাম হয় 'বাদ' পড়েছে নয়তো 'বিবেচনাধীন' থেকেছে। এমতাবস্থায়, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিজেপিকে একই বন্ধনীতে রেখে রাজ্যের শাসকদল ক্রমাগত অভিযোগ করে এসেছে, বেছে-বেছে সংখ্যালঘুদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। সোমবার গভীর রাতে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের পর ঠিক একই অভিযোগ শোনা গেল বসিরহাটে, "বেছে বেছে আমাদের (সংখ্যালঘুদের) নাম বাদ দিয়েছে, ওদের (সংখ্যাগুরুদের) নাম কিন্তু আছে"।
বিচারকরাও 'পক্ষপাতদুষ্ট'?
বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বেগমপুর বিবিপুর অঞ্চলের বড় গোবরা গ্রামের পাঁচ নম্বর বুথের ৩৪০ জনের নাম চূড়ান্ত তালিকায় বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION) ছিল। সোমবার রাতে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, ওই ৩৪০ জন 'বাদ' পড়েছেন। এবং, 'বাদ'-এর খাতায় রয়েছেন বিএলও শফিউল আলম। তাঁর বক্তব্য, "বিডিও অফিসে গিয়েছি, কোনও লাভ হয়নি। আমাকে জানানো হয়েছে, এখন ওঁদের হাতে কিছু নেই"।
'বাদ' পড়া মিজানুর রহমানের দাবি, "শুনানিতে সব নথি দিয়েছিলাম। কিন্তু তারপরেও নাম ওঠেনি। আমরা আতঙ্কিত হয়ে আছি। আমাদের নথিতে কোথাও একটা ভুলও খুঁজে পাওয়া যাবে না। এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে"। কেন? উত্তর, "৫ জন হিন্দুভোটারও বিবেচনাধীন ছিলেন। সেই ৫ জনের নামই কিন্তু তালিকায় রয়েছে। তাঁদের কিন্তু কোনও নথি ছিল না। আমাদের (সংখ্যালঘুদের) একটা নামও নেই। ট্রাইবুনালের কথা শুনছি ঠিকই। তবে কীভাবে কী করব, তা ভেবে উঠতে পারছি না আর সেখানে গেলেও যে লাভ হবে, তার কোনও গ্যারান্টি নেই। নথি তো সেই একই"। কাদের জন্য এমনটা হল? শকিকুলের উত্তর, "কোনও একটা রাজনৈতিক দলের হাত রয়েছে এর পেছনে। তাদের অঙ্গুলিহেলনেই সব হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন তো বিজেপির দালাল হয়ে গেছে"। কিন্তু সাপ্লিমেন্টারি তালিকা তৈরি করেছিলেন বিচারকরা, তাহলে? "বিচারকদের উপর ভরসা করেছিলাম। কিন্তু এখন দেখছি, বিচারকরাও তাদের লোক। আমরা একটা বিশেষ সম্প্রদায়ের লোক, তাই বাদ দেওয়া হয়েছে"।
তাহলে বিচারকরাও 'পক্ষপাতদুষ্ট'? অভিযোগ গুরুতর, মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল।