৯তম আন্তর্জাতিক আদিবাসী সাঁওতাল কনফারেন্সে যোগ দিতে শনিবার উত্তরবঙ্গ সফরে এসেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। কিন্তু তাঁর সেই সফর সূচিকে কেন্দ্র করেই তুমুল উত্তেজনা শুরু হয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। জানা যাচ্ছ...
৯তম আন্তর্জাতিক আদিবাসী সাঁওতাল কনফারেন্সে যোগ দিতে শনিবার উত্তরবঙ্গ সফরে এসেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। কিন্তু তাঁর সেই সফর সূচিকে কেন্দ্র করেই তুমুল উত্তেজনা শুরু হয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। জানা যাচ্ছে, আজ বিধান নগর সন্তোষিনী বিদ্যা চক্র হাই স্কুলের মাঠে রাষ্ট্রপতির সভা হবার কথা ছিল। কিন্তু রাজ্য প্রশাসনের তরফে অনুমতি না মেলায় বাগডোগরা বিমানবন্দরের অদূরে গোঁসাইপুরে সেই সভা স্থল নির্ধারিত হয়। তবে এদিনের অনুষ্ঠানে দর্শক সংখ্যা অতি নগণ্য থাকায় বেজায় রুষ্ট হন মুর্মু। এরপর গোঁসাইপুরে সভা শেষ করে ফের বিধান নগর সন্তোষিনী বিদ্যা চক্র হাই স্কুলের মাঠ পরিদর্শনে যান তিনি। আর সেখানে গিয়ে বক্তব্য রাখার সময়েই আশ্চর্যজনকভাবে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।
এদিন রাষ্ট্রপতি বলেন, 'প্রশাসনের কি সমস্যা বুঝলাম না। আমায় বলা হয়েছিল অত্যন্ত সংকীর্ণ জায়গা (বিধান নগর হাই স্কুলের মাঠে)। কিন্তু আমি তো দেখলাম এখানে কমপক্ষে পাঁচ লক্ষ লোকের জমায়েত হতে পারে। বুঝতে পারলাম না আমায় কেন অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হল, যেখানে আমার ভাই বোনেরা বেশিরভাগ যেতেই পারলেন না। তাই ভাবলাম আমি নিজেই যাই আপনাদের কাছে। দেখে আসি কেমন আছেন আপনারা।' এরপরেই মুর্মু কিছুটা অভিমানের সুরে বলেন, 'ওঁরা ভেবেছিল প্রেসিডেন্ট আসবেন আর ফাঁকা মাঠ দেখে চলে যাবে। তাই আমিই এখানে এলাম। সাধারণত রাষ্ট্রপতি আসলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সেখানে উপস্থিত হওয়া কাম্য। মন্ত্রীদের থাকা উচিত। কিন্তু চিফ মিনিস্টার ম্যাডাম আসেননি।'
এদিন কার্যত রাজ্য সরকারকে নিশানায় রেখে 'মিতভাষী' মুর্মু বলেন, 'আমিও বাংলার মেয়ে। কিন্তু আমাকে আসতেই দেওয়া হয় না। মমতা আমার ছোট বোনের মত। হয়ত আমার উপর রাগ করেছে, তাই আমাকে স্বাগত জানাতে তিনি নিজে আসেননি। যাই হোক, এটা কোনও ব্যাপার নয়। কোনও দুঃখ নেই। আপনার সকলে ভালো থাকবেন।'
বলে রাখা ভালো, যেকোন রাজ্যে রাষ্ট্রপতির সফর থাকলে, তাঁকে সেখানে স্বাগত জানানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্য প্রশাসনের কোনও প্রতিনিধি অর্থাৎ কোনও মন্ত্রীকে থাকতে হয়। এটাই প্রোটোকল। তবে আজকের ঘটনায় সেই প্রটোকল কিছুটা ভেঙেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ এদিন রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জনাতে বিমানবন্দরে কেবল উপস্থিত হয়েছিলেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। আর এই সব কিছু নিয়েই চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুর্মু নিজেই।