রাষ্ট্রপতি বনাম মুখ্যমন্ত্রীর নজিরবিহীন দ্বৈরথের জল গড়াল অনেকদূর। অমিত শাহের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক একেবারে বিকেল পাঁচটা অবধি সময়সীমা বেঁধে দিয়ে রাজ্যের মুখ্য সচিবের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠাল। এবং যা কার্য...
রাষ্ট্রপতি বনাম মুখ্যমন্ত্রীর নজিরবিহীন দ্বৈরথের জল গড়াল অনেকদূর। অমিত শাহের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক একেবারে বিকেল পাঁচটা অবধি সময়সীমা বেঁধে দিয়ে রাজ্যের মুখ্য সচিবের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠাল। এবং যা কার্যত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অমিত শাহের সংঘাত বলে মনে করল রাজনৈতিক মহল।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে স্বাগত জানাতে বা রিসিভ করতে প্রোটোকল মানা হয়নি বলে মনে করছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের। এমতাবস্থায়, প্রোটোকলের ত্রুটি, দার্জিলিং জেলায় আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনের স্থান পরিবর্তন-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে রবিবার বিকেল ৫টার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন।
কী বলছেন পর্যবেক্ষকরা?
রাষ্ট্রপতির আগমনকে ঘিরে শনিবার বাংলায় যা ঘটল, এ-দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে তার নজির খুঁজে পাচ্ছেন না পর্যবেক্ষকরা। এই নজিরবিহীন কুনাট্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, রাজ্য বনাম রাজ্যপাল দ্বৈরথের নজির রয়েছে ভূরি-ভূরি। ষাটের দশকের শেষে রাজ্যপাল ধরমবীরের সুপারিশে বাংলায় সরকার পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বামজমানার শেষের দিকে রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধীর সঙ্গে শাসকদল সিপিএমের সংঘাত কার্যত 'রাস্তার রাজনীতি'তে পরিণত হয়েছিল। 'পরিবর্তন'-পরবর্তী তৃণমূল সরকারের সঙ্গে প্রথমে জগদীপ ধনখড় ও পরে সদ্য পদত্যাগী সিভি আনন্দ বোস-এর সঙ্গে সংঘাত চূড়ান্তে পর্যায়ে পৌঁছেছে। রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধীকে যেমন তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন বামনেতারা, ঠিক তেমনই, ধনখড় ও বোস-কে 'বিজেপির দালাল' বলে দেগে দিয়েছে তৃণমূল। কিন্তু, কোনও রাষ্ট্রপতি রাজ্যে এসে শাসকদলকে মিছরি দিয়ে ছুরিকাঘাত করছেন, তা-ও বিধানসভা ভোটের মুখে, এমন নজির কিন্তু এ-দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে নেই বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। সংসদে পাশ হওয়া বিলে সই করাই রাষ্ট্রপতির কাজ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে অসংখ্যবার। বাজেট অধিবেশন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা দিবসের দিন রাজ্যপাল জাতির উদ্দেশে যে-বার্তা দেন, তা কেন শাসকদলের লিখে দেওয়া বয়ানের বাইরে বেরোতে পারে না, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। এমনকি, ইন্দিরা গান্ধীর পছন্দের রাষ্ট্রপতি জ্ঞানী জৈল সিংয়ের সঙ্গে পরে কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর তিক্ত সম্পর্ক এক সময়ে নিয়মিত সংবাদ শিরোনামে এসেছে। কিন্তু, ভোটের বাজারে রাজ্যে এসে রাস্তার ধারে হ্যান্ড মাইক হাতে শাসকদলকে বিঁধছেন কোনও রাষ্ট্রপতি, এহেন অলীক কুনাট্য আগে কখনও দেখা যায়নি।