বামজমানার শেষে সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণ নীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠল তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের বৈঠকে। সৌজন্যে, অবসরপ্রাপ্ত আইএএস তথা নির্বাচনের কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তর একটি মন্তব্য।
কী মন্তব্য, কী প্রতিক্রিয়া?
একদিকে এসআইআর-এর ধাক্কা। অন্যদিকে, রাজ্যের মুখ্যসচিব থেকে স্বরাষ্ট্রসচিবকে একেবারে আক্ষরিক অর্থেই রাতারাতি সরিয়ে দেওয়া। এমতাবস্থায়, মঙ্গলবার কালীঘাটের বাড়ি থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগে ও পরে নির্বাচন কমিশনকে একহাত নিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, এবার বুথের ভিতর কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন, কী বলবেন? প্রশ্ন শুনে দৃশ্যতই ক্রুদ্ধ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "বুথের ভিতর ছাপ্পা মারতে ঢুকবে সিআরপিএফ? বিহারে যেটা করেছে? আইন অনুযায়ী সিআরপিএফ বুথের ভিতর ঢুকতে পারে না। সবকিছু ওদের ইচ্ছেমতো হতে পারে না। এটা চ্যালেঞ্জ করা হবে আদালতে। বুথের ভিতর কেবল ভোটারদের ঢুকতে দেওয়া হবে। কে কাকে ভোট দিচ্ছে, তা দেখার কোনও অধিকার নেই। আই চ্যালেঞ্জ দিস"।
এরপর তৃণমূলনেত্রীকে প্রশ্ন করা হয়, কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, বাংলায় যেভাবে ভোট হয় এবার তা হবে না, বাংলার ভোট-কালচার পাল্টাবে, কী বলবেন? মমতার তীব্র প্রতিক্রিয়া, "উনি (সুব্রত গুপ্ত) জোর করে সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণ করেছিলেন, তা কি ভুলে গিয়েছেন? সিঙ্গুরে তাপসী মালিকের ঘটনা মনে করিয়ে দেবো? এর থেকে বেশি আর ওঁর সম্বন্ধে আমার বলার কিছু নেই"।
এখানেই শেষ নয়। এরপর অন্য এক সাংবাদিক যখন তাঁকে অন্য প্রশ্ন করতে শুরু করেন, তখন কার্যত তাঁকে থামিয়ে দিয়ে ফের সুব্রত গুপ্তর প্রসঙ্গ টেনে এনে দৃশ্যতই ক্রুদ্ধ মমতা বলেন, "(ভোট) কালচার মানে কি বিজেপির ডান্স করা? উনি (সুব্রত গুপ্ত) এখানকার কালচার কী চেঞ্জ করবেন? বেঙ্গলের কালচার, বাংলার কালচার, বাংলাতেই থাকবে। উনি নিজের কালচার ঠিক করুন আগে"।
#ভোট এবার অন্যরকম হবে?
#ভোট এবার অন্যরকম হবে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ছাব্বিশের বিধানসভার হ্যাশট্যাগ হচ্ছে, ভোট এবার অন্যরকম হবে।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, জ্ঞানেশ কুমারের দাওয়াই ইতিমধ্যেই কাজ করতে শুরু করে দিয়েছে। ভোট ঘোষণার অনেক আগে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী এসেছে। ওই বাহিনীকে যাতে যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয়, সেদিকে কড়া নজর রেখেছে কমিশন। দুদিনের বঙ্গসফরে এসে, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার খুব তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বলেছেন, "রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দের তপোভূমিতে দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশন আবারও পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি ভোটারকে বার্তা দিতে চায়, নির্বাচন হবে অহিংস (Violence Free) এবং ভয়শূন্য (Intimidation Free)"। পর্যবেক্ষকরা গুরুত্ব দিচ্ছেন দ্বিতীয়টির উপর। যে-চোখরাঙানি চোখে দেখা যায় না, যে-হুমকি কানে শোনা যায় না, একেবারে ঠিক সেই জায়গাতেই জোর দিয়েছেন তিনি: 'ইন্টিমিডেশন ফ্রি (Intimidation Free)'। বুথের ভিতর যতটা নজর কমিশনের, ঠিক ততটাই নজর বুথের বাইরে। রাজ্যের আমলা ও পুলিস কর্তাদের স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার, শুধু ভোটের দিন কোথাও কোনও রক্তপাত হবে না, তা নয়, 'নিঃশব্দ অদৃশ্য সন্ত্রাস'ও এবার আর বরদাস্ত করা হবে না। রাজ্যের এডিজি (আইন-শৃঙ্খলা) বিনীত গোয়েলকে ধমক দিয়ে তিনি বলেছেন, "সব জানি, বসুন"। বেশ কয়েকজন জেলাশাসককে সতর্ক করে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, সব কাজের 'ডিজিটাল ফুট প্রিন্ট' রয়েছে ও রয়ে যাবে, তাই, বেচাল দেখলে ভোট-পর্ব শেষ হওয়ার পরেও পদক্ষেপ করবে কমিশন।
সূত্রের খবর, বাংলার 'ভোট কালচার' অন্যরকম করতে জ্ঞানেশ কুমার গাণ্ডিব তুলে দিচ্ছেন সুব্রত গুপ্তের হাতেই। আমলা মহলে যাঁর সততা প্রশ্নাতীত। এবং, দক্ষতাও।