ছত্তিসগড় হাইকোর্ট সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে স্পষ্ট করেছে যে শরিয়ত আদালত বা ধর্মীয় আদালত কোনো তালাক (ডিভোর্স) প্রদান করতে পারে না। তারা কেবলমাত্র মতামত বা পরামর্শ দিতে পারে। আদালত বলেছে, নতুন ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী বিবাহবিচ্ছেদ একটি আইনি প্রক্রিয়া, যা কেবলমাত্র দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে।
এই মামলায় অভিযোগ ছিল যে কিছু শরিয়ত আদালত সরাসরি তালাকের আদেশ দিচ্ছে, যা আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে বৈধ নয়। হাইকোর্টের মতে, শরিয়ত আদালত সমাজে ধর্মীয় ও সামাজিক প্রশ্নে মতামত দিতে পারে, কিন্তু তাদের কোনো বিচারিক ক্ষমতা নেই। ফলে তারা তালাক বা বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারে না।
আদালত আরও বলেছে, ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী সকল নাগরিকের জন্য আইনি প্রক্রিয়া সমানভাবে প্রযোজ্য। বিবাহবিচ্ছেদ, সম্পত্তি বা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত প্রশ্ন আদালতের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। ধর্মীয় আদালতের মতামত কেবলমাত্র পরামর্শ হিসেবে গ্রহণযোগ্য, কিন্তু তা আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করে না।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই রায় ভারতের বিচারব্যবস্থাকে আরও স্পষ্ট করেছে। অনেক সময় ধর্মীয় আদালতের সিদ্ধান্তকে আইনি বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা হয়, যা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণ সেই বিভ্রান্তি দূর করবে।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এই রায় নারীদের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কারণ শরিয়ত আদালতের মাধ্যমে তালাক প্রক্রিয়া অনেক সময় একতরফা হয়, যা নারীদের জন্য অন্যায়। এখন থেকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তালাক হলে উভয় পক্ষের অধিকার সমানভাবে রক্ষা পাবে।
সর্বোপরি, হাইকোর্টের এই রায় দেখাচ্ছে যে ধর্মীয় আদালত সমাজে পরামর্শমূলক ভূমিকা রাখতে পারে, কিন্তু বিচারিক ক্ষমতা কেবলমাত্র দেওয়ানি আদালতের হাতে। এটি ভারতের বিচারব্যবস্থার ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রকে আরও শক্তিশালী করেছে।
#ChattisgarhHighCourt #ShariaCourt #NyaySanhita #Justice #WomensRights