Calcutta Television Network

চাঁদ মানবজাতির যৌথ সম্পদ

চাঁদকে ঘিরে মানুষের কৌতূহল হাজার বছরের পুরনো। কিন্তু আধুনিক যুগে প্রশ্ন উঠেছে—চাঁদের মালিক আসলে কে? আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী উত্তর হলো: কেউই নয়।  

১৯৬৭ সালের আউটার স্পেস ট্রিটি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে যে মহাকাশ, চাঁদসহ অন্য সব মহাজাগতিক বস্তু কোনো দেশ, ব্যক্তি বা কোম্পানির মালিকানাধীন হতে পারে না। চুক্তির Article II অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্র সার্বভৌমত্ব দাবি করতে পারে না, ব্যবহার বা দখল করে মালিকানা নিতে পারে না। অর্থাৎ চাঁদ মানবজাতির যৌথ সম্পদ।  

পরে ১৯৭৯ সালে মুন এগ্রিমেন্ট করা হয়, যেখানে বলা হয় চাঁদের সম্পদ মানবজাতির “common heritage”। তবে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীনসহ বড় মহাকাশ শক্তিগুলি এই চুক্তি স্বাক্ষর করেনি। ফলে বাস্তবে এর প্রভাব সীমিত।  

তাহলে চাঁদে কী করা যায়? মালিকানা দাবি করা যায় না, কিন্তু বৈজ্ঞানিক গবেষণা, অনুসন্ধান এবং শান্তিপূর্ণ ব্যবহার অনুমোদিত। উদাহরণস্বরূপ, NASA, ISRO, CNSA-এর মতো সংস্থাগুলি চাঁদে মিশন চালাচ্ছে। তারা তথ্য সংগ্রহ করছে, পানি বরফ ও খনিজ সম্পদ খুঁজছে।  

সম্পদ আহরণ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের Artemis Accords (২০২০) অনুযায়ী, চাঁদের সম্পদ আহরণ করা যেতে পারে, তবে মালিকানা দাবি করা যাবে না। অর্থাৎ কোনো দেশ বা কোম্পানি চাঁদের জমি কিনতে বা বিক্রি করতে পারবে না, কিন্তু বৈজ্ঞানিক বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে সম্পদ ব্যবহার করতে পারবে।  

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভবিষ্যতে চাঁদের সম্পদ যেমন হিলিয়াম-৩, বিরল ধাতু ও পানি বরফ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও আইনগত কাঠামো আরও শক্তিশালী করা জরুরি।  

সর্বোপরি, চাঁদ মানবজাতির যৌথ সম্পদ। এটি কোনো দেশের নয়, কোনো ব্যক্তির নয়। বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও শান্তিপূর্ণ ব্যবহারই চাঁদের প্রকৃত উদ্দেশ্য। মালিকানা নয়, বরং সহযোগিতা ও মানবজাতির কল্যাণই চাঁদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।  

#Moon #SpaceLaw #OuterSpaceTreaty #HumanHeritage #BreakingNews 


শেয়ার করুন