Calcutta Television Network

বর্ষার পরেও ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন যে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া শুধুমাত্র বর্ষাকালেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এর সংক্রমণ বর্ষার পরেও বাড়তে পারে। সাধারণত এই দুই রোগ বর্ষাকালে বেশি দেখা যায়, কারণ জলাবদ্ধতা ও মশার প্রজনন তখন দ্রুত বৃদ্ধি পায়। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, নগরায়ণ এবং অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থার কারণে মশার প্রজনন মৌসুম দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এর ফলে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি সারা বছর জুড়েই থেকে যাচ্ছে।  

ডেঙ্গু মূলত *এডিস ইজিপ্টি* মশার মাধ্যমে ছড়ায়। উচ্চ জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পিছনে ব্যথা, শরীর ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, বমি এবং ত্বকে ফুসকুড়ি এর সাধারণ লক্ষণ। গুরুতর ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণ ও শক দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে ম্যালেরিয়া *অ্যানোফিলিস* মশার মাধ্যমে ছড়ায়। এর লক্ষণ হলো জ্বর, কাঁপুনি, মাথাব্যথা, ঘাম এবং দুর্বলতা। গুরুতর অবস্থায় কিডনি ও লিভারের ক্ষতি হতে পারে।  

চিকিৎসকদের মতে, বর্ষার পরেও জমে থাকা পানি, অপরিষ্কার ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং আবর্জনার স্তূপ মশার প্রজননস্থল হিসেবে কাজ করছে। শহর ও গ্রামে সমানভাবে এই ঝুঁকি রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় মশার জীবনচক্র দীর্ঘ হচ্ছে। ফলে সংক্রমণ মৌসুমও বাড়ছে।  

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনসচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। মশারি ব্যবহার, ফুলহাতা জামা পরা, মশা প্রতিরোধক স্প্রে ব্যবহার এবং জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের উচিত নিয়মিত ফগিং ও ড্রেনেজ পরিষ্কার রাখা। চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়া উচিত। দেরি করলে জটিলতা বাড়তে পারে।  

সব মিলিয়ে, ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ এখন আর মৌসুমি নয়, বরং সারা বছর জুড়েই ঝুঁকি তৈরি করছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সচেতনতা, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণই একমাত্র পথ।  

#Dengue #Malaria #HealthAlert #PublicHealth #India

শেয়ার করুন