ভারতে ইএমআই (Equated Monthly Installment) অফার এখন ক্রেতাদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক্স, মোবাইল ফোন, গৃহস্থালী যন্ত্রপাতি বা এমনকি ভ্রমণ খরচেও লো-কস্ট ইএমআই অফার দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে এই অফারগুলির মধ্যে লুকিয়ে থাকে কিছু গোপন প্রসেসিং খরচ এবং হারানো ডিসকাউন্ট, যা অনেক সময় গ্রাহক বুঝতেই পারেন না।
লো-কস্ট ইএমআই অফারের মূল আকর্ষণ হলো—গ্রাহককে বলা হয় যে সুদের হার নেই বা খুব কম। কিন্তু ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানি প্রায়ই প্রসেসিং ফি, ডকুমেন্টেশন চার্জ বা সার্ভিস ট্যাক্স যোগ করে দেয়। ফলে মাসিক কিস্তি কম মনে হলেও মোট খরচ বেড়ে যায়।
আরেকটি বড় সমস্যা হলো হারানো ডিসকাউন্ট। অনেক দোকান নগদে বা এককালীন অর্থপ্রদানে বিশেষ ছাড় দেয়। কিন্তু ইএমআই বেছে নিলে সেই ছাড় আর পাওয়া যায় না। ফলে গ্রাহক আসলে বেশি টাকা খরচ করেন, যদিও তিনি মনে করেন যে ইএমআই অফার সস্তা।
উদাহরণস্বরূপ, একটি মোবাইল ফোনের দাম যদি ₹৩০,০০০ হয় এবং নগদে কিনলে ₹২,০০০ ছাড় পাওয়া যায়, তবে ইএমআই-তে সেই ছাড় বাতিল হয়ে যায়। উপরন্তু, প্রসেসিং ফি হিসেবে ₹১,০০০ যোগ হলে গ্রাহক আসলে ₹৩১,০০০ খরচ করেন। অর্থাৎ, লো-কস্ট ইএমআই অফার আসলে **লো-কস্ট নয়**, বরং লুকানো খরচের মাধ্যমে বেশি ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রাহকদের উচিত প্রতিটি ইএমআই অফারের শর্ত ভালোভাবে পড়া। প্রসেসিং ফি, সার্ভিস চার্জ, এবং ডিসকাউন্ট বাতিলের শর্ত আগে যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে, নগদে কেনার সুবিধা ও ইএমআই-এর প্রকৃত খরচ তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
সব মিলিয়ে, লো-কস্ট ইএমআই অফার অনেক সময় গ্রাহকদের জন্য ফাঁদে পরিণত হয়। সচেতনতা ও হিসাব-নিকাশ ছাড়া এই অফার গ্রহণ করলে আর্থিক ক্ষতি অনিবার্য।
#EMI #HiddenCharges #ConsumerRights #IndiaFinance