Calcutta Television Network

মার্কিন-ইরান সংঘাতের প্রভাবে ভারতের এলএনজি আমদানির খরচ বৃদ্ধি

ভারতের জ্বালানি খাত বর্তমানে এক কঠিন সংকটের মুখোমুখি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে এলএনজি (Liquefied Natural Gas) সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। এর ফলে ভারতীয় জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ দামে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে।  

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় কোম্পানিগুলোকে প্রতি এমএমবিটিইউ (MMBtu) এলএনজির জন্য ২৩ ডলারেরও বেশি দিতে হচ্ছে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। কাতারের এলএনজি রপ্তানি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়েছে। ফলে ভারতকে স্পট মার্কেটে নির্ভর করতে হচ্ছে, যেখানে দাম অত্যন্ত অস্থির।  

এই পরিস্থিতি ভারতের অর্থনীতিতে বহুমুখী প্রভাব ফেলছে।

- আমদানি বিল বৃদ্ধি: জ্বালানি আমদানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় রুপির ওপর চাপ বাড়ছে এবং মুদ্রাস্ফীতি ত্বরান্বিত হচ্ছে।

- শিল্পখাতে চাপ: সার উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং গ্যাস-নির্ভর শিল্পগুলোতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

- জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকি: মধ্যপ্রাচ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তাকে দুর্বল করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট মোকাবিলায় ভারতের উচিত—

- সরবরাহ বৈচিত্র্যকরণ: যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশ থেকে এলএনজি আমদানি বাড়ানো।

- দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি: গভীর সমুদ্র থেকে গ্যাস উত্তোলন প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো।

- নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসার: সৌর ও বায়ু শক্তি প্রকল্প দ্রুত সম্প্রসারণ করা।

- কৌশলগত মজুত: এলএনজি সংরক্ষণ ক্ষমতা বাড়িয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।

সব মিলিয়ে, মার্কিন-ইরান সংঘাত ভারতের জ্বালানি খাতকে সরাসরি আঘাত করেছে। এলএনজি আমদানির উচ্চ খরচ শুধু শিল্প ও অর্থনীতিকে নয়, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকেও প্রভাবিত করছে। এই সংকট প্রমাণ করছে যে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুমুখী কৌশল গ্রহণ এখনই জরুরি।  

#IndiaEnergy #LNG #IranConflict #GlobalMarkets

শেয়ার করুন