ফ্লাইদুবাইয়ের সহ-পাইলট: আগেই নিষিদ্ধ, তারপরও নিয়োগ – যে নিরাপত্তা ব্যর্থতা প্রায় ডেকে আনল বিপর্যয়
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ ফ্লাইটে যে ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিল, তার পেছনের নতুন তথ্য এখন আরও উদ্বেগজনক। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুসারে, যে ওমানি সহ-পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে ছুরি দিয়ে আক্রমণ করে বিমানটিকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিলেন, তিনি আগেই ওমান কর্তৃক উড়ান নিষিদ্ধ ছিলেন। কারণ ছিল তাঁর চরমপন্থী আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে উদ্বেগ।
ওমানি কর্তৃপক্ষ তাঁকে ফ্লাইট পরিচালনা থেকে নিষিদ্ধ করেছিল। তবুও তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ফ্লাইদুবাইতে চাকরি পান এবং দুবাই-তেল আবিব রুটে ফার্স্ট অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এখনও পরিষ্কার নয় যে ওমান এই উদ্বেগ অন্য দেশ বা এয়ারলাইনকে জানিয়েছিল কি না, কিংবা ফ্লাইদুবাই নিয়োগের সময় যথাযথ ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করেছিল কি না।
এই তথ্য প্রকাশের পর প্রশ্ন উঠেছে বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার গভীর ফাটল নিয়ে। একজন পাইলট যখন নিজের দেশেই চরমপন্থী মতাদর্শের কারণে নিষিদ্ধ হন, তখন কীভাবে তিনি অন্য একটি এয়ারলাইনতে, বিশেষ করে ইসরায়েলগামী সংবেদনশীল রুটে, উড়তে পারলেন? ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইতোমধ্যে বলেছেন, হামলাকারী “ইসলামিস্ট র্যাডিক্যালাইজেশন” এর মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন এবং তিনি আত্মঘাতী মনোভাব নিয়ে বিমানটিকে যাত্রীসহ ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন।
এই ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত হামলার গল্প নয়। এটি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা যাচাই ব্যবস্থার ব্যর্থতা প্রকাশ করে। যদি পূর্বের সতর্কবার্তা সঠিকভাবে শেয়ার করা হতো বা নিয়োগের সময় কঠোর পরীক্ষা করা হতো, তাহলে হয়তো ১৭৪ জন যাত্রীর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ত না। ক্যাপ্টেন মচ্ছরের সাহস ও যাত্রীদের দ্রুত প্রতিক্রিয়া বিপর্যয় ঠেকিয়েছিল। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—এমন ফাঁকফোকর আর কতদিন সহ্য করা হবে?
বিমান নিরাপত্তা শুধু প্রযুক্তির বিষয় নয়, এটি তথ্য বিনিময়, কঠোর যাচাই ও দায়িত্বশীলতার বিষয়ও। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয়ের সম্ভাবনা থেকেই যাবে।
#Flydubai #AviationSecurity #FZ1073