আগস্ট ২০২৬-এর ভিসা বুলেটিন আবারও ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য হতাশাজনক খবর এনেছে। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের বিভিন্ন বিভাগে দীর্ঘদিনের জট এখনও কাটেনি। EB‑2 বিভাগ সম্পূর্ণভাবে অপ্রাপ্য, EB‑1 বিভাগে অতিরিক্ত চাহিদার কারণে স্থগিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, আর EB‑3 বিভাগেও কোনো অগ্রগতি নেই। ফলে হাজার হাজার দক্ষ ভারতীয় কর্মী আবারও স্থায়ী বসবাসের স্বপ্ন থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
এই বিলম্ব কেবল প্রশাসনিক জটিলতা নয়, বরং একটি কাঠামোগত সমস্যা। প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে অবদান রাখা ভারতীয় পেশাজীবীরা বারবার অস্থায়ী ভিসার চক্রে আটকে যাচ্ছেন। পরিবারগুলো অনিশ্চয়তায় ভুগছে, সন্তানরা নির্দিষ্ট বয়সের পর নির্ভরশীলতার অধিকার হারাচ্ছে, আর কর্মজীবনে স্থায়িত্বের অভাব দেখা দিচ্ছে।
পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড বিভাগে কিছুটা অগ্রগতি হলেও তা কর্মসংস্থানভিত্তিক পথের স্থবিরতা কাটাতে পারছে না। ভারত, যা বৈশ্বিক দক্ষ জনশক্তির অন্যতম প্রধান উৎস, সেখানে এই বিলম্বকে অনেকেই অন্যায্য মনে করছেন।
মূল সমস্যাটি হলো চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যহীনতা। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থা কয়েক দশক আগে তৈরি হয়েছিল, যা আজকের বৈশ্বিক কর্মশক্তির বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খায় না। আমেরিকার শিল্পক্ষেত্র ভারতীয় প্রতিভার ওপর নির্ভর করছে, অথচ সেই কর্মীদের স্থায়িত্ব দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। এর ফলে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য তৈরি হয়েছে—দেশটি দক্ষ শ্রমিকের সুবিধা নিচ্ছে, কিন্তু তাদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে রাখছে।
এই পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দেয় যে সংস্কার এখন আর বিকল্প নয়, বরং জরুরি। ভিসা কোটার সীমা ও প্রসেসিং সময়সীমা পরিবর্তন না হলে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষ কর্মীদের আস্থা হারাবে। আগস্ট ২০২৬-এর গল্প কেবল একটি বুলেটিনের সংখ্যা নয়—এটি হাজারো জীবনের গল্প, যেখানে ভবিষ্যৎ স্থগিত হয়ে আছে এবং একটি ব্যবস্থা সাহসী পরিবর্তনের অপেক্ষায়।
#GreenCard #USImmigration #IndianProfessionals #VisaBacklog