ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার পথে সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দেশের দুই প্রধান রিফাইনার—ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (IOC) এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (HPCL)—মোট প্রায় ৭ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করেছে আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে। এই ক্রয় ভারতের ভবিষ্যৎ জ্বালানি চাহিদা পূরণে একটি বড় ভূমিকা রাখতে চলেছে।
ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন আফ্রিকার দেশ অ্যাঙ্গোলা ও নাইজেরিয়া থেকে বিভিন্ন গ্রেডের অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করেছে। অপরদিকে, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন ব্রাজিলের বিখ্যাত টুপি ক্রুড ক্রয় করেছে। এই তেলগুলো আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে ভারতে পৌঁছাবে এবং দেশের রিফাইনিং ক্ষমতা ও মজুত বাড়াবে।
বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওঠানামা ভারতের অর্থনীতির উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী IOC ও HPCL-এর এই পদক্ষেপকে বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা থেকে তেল আমদানি করার মাধ্যমে ভারত তার সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যময় করছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের উপর নির্ভরশীলতা কিছুটা কমবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলেও ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় থাকবে।
এছাড়া, এই ক্রয় ভারতের কৌশলগত মজুত বাড়াতে সাহায্য করবে। বর্তমানে ভারত তার জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানির উপর নির্ভরশীল। তাই পর্যাপ্ত মজুত রাখা অত্যন্ত জরুরি। আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে আসা এই নতুন তেল সরবরাহ দেশের শিল্প, পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, IOC ও HPCL-এর এই পদক্ষেপ ভারতের জ্বালানি নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়লেও ভারত তার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চাইছে। এই ক্রয় শুধু অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগত দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সারসংক্ষেপে বলা যায়, ভারতের দুই প্রধান রিফাইনারের এই নতুন তেল চুক্তি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পথে একটি বড় পদক্ষেপ। আগামী দিনে এই ধরনের উদ্যোগ ভারতের জ্বালানি নীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।