জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠকে তিনি স্পষ্টভাবে ভারতের উদ্বেগ প্রকাশ করেন নতুন করে কার্যকর হওয়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আইন নিয়ে। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষরিত *Sanctioning Russia and Iran Act (SRIA)* অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি অব্যাহত রাখলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা যেতে পারে। ভারতের মতো একটি দেশ, যা রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ক্রেতা, এই আইনের ফলে সরাসরি প্রভাবিত হতে পারে।
জয়শঙ্কর বৈঠকে বলেন, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এই ধরনের পদক্ষেপে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ভারতের প্রায় ৪৫ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রাশিয়া থেকে আসে। এত বড় পরিমাণ আমদানি হঠাৎ করে বন্ধ করা বা শুল্কের কারণে ব্যয়বহুল হয়ে পড়লে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাবে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা থেকে শুরু করে শিল্প উৎপাদন পর্যন্ত সবকিছুতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি অবশ্য ভিন্ন। তারা মনে করে, রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা মানে মস্কোর যুদ্ধ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা। তাই এই আইন কার্যকর করে তারা রাশিয়াকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে চাইছে। কিন্তু ভারতের অবস্থান হলো, রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া বৈশ্বিক বাজারকে স্থিতিশীল রাখে এবং ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য এটি অপরিহার্য।
এই বৈঠকে রুবিও ভারতের উদ্বেগ শোনেন এবং বলেন, মার্কিন প্রশাসন ভারতের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বকে গুরুত্ব দেয়। তবে তিনি এটাও উল্লেখ করেন যে, প্রেসিডেন্টের হাতে শুল্ক আরোপের পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। অর্থাৎ, আইন কার্যকর হলেও তার প্রয়োগে কিছুটা নমনীয়তা থাকতে পারে।
এই পরিস্থিতি ভারত–মার্কিন সম্পর্ককে নতুন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়েছে। একদিকে দুই দেশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রযুক্তি বিনিয়োগ ও বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে এগোচ্ছে, অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞা আইন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে জটিল করে তুলছে। ভারতকে এখন একদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ঐতিহ্যগত সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে, অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বও অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।
জয়শঙ্করের এই হস্তক্ষেপ ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরেছে। এটি শুধু একটি দ্বিপাক্ষিক ইস্যু নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও ভূরাজনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এখন বিশ্ব তাকিয়ে আছে—মার্কিন প্রশাসন কতটা নমনীয় হবে এবং ভারত কীভাবে এই জটিল সমীকরণ সামলাবে।
#IndiaUS #Jaishankar #Rubio #SanctionsLaw #EnergySecurity #BreakingNews