মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী ভারতীয় পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০% শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এক মার্কিন সিনেটর প্রকাশ্যে এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন। তার মতে, এ ধরনের কঠোর শুল্ক আরোপ ভারতকে আরও বেশি করে রাশিয়া ও চীনের দিকে ঠেলে দিতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হবে।
ভারত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম রাশিয়ান তেল ক্রেতা। এই কারণে মার্কিন আইনপ্রণেতারা মনে করছেন, ভারত রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতিকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করছে। তবে ভারতীয় নীতিনির্ধারকরা যুক্তি দেন যে সস্তা রাশিয়ান তেল দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দ্বন্দ্বই যুক্তরাষ্ট্র‑ভারত সম্পর্ককে জটিল করে তুলেছে।
সিনেটরের বক্তব্যে মূল বার্তা হলো—ভারতের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করলে তা উল্টো ফল দিতে পারে। ভারত যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক দুর্বল করে, তবে স্বাভাবিকভাবেই রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াবে। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় কৌশলগত ক্ষতি হবে।
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় যুক্ত। তবে শুল্ক আরোপের মতো পদক্ষেপ এই সম্পর্ককে দুর্বল করতে পারে। বিশেষ করে ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই ইস্যু বড় আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
সব মিলিয়ে, মার্কিন সিনেটরের সতর্কবার্তা দেখাচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ভারতকে নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ কেউ কঠোর শুল্ক আরোপকে সমর্থন করছেন, আবার কেউ মনে করছেন এটি কৌশলগতভাবে বিপজ্জনক। ভবিষ্যতে এই বিতর্কই দুই দেশের সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
#IndiaUS #Tariffs #GlobalTrade #RussiaChina #Geopolitics