মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনেট সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করেছে, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষমতা দিচ্ছে ভারতসহ কয়েকটি দেশের পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০% শুল্ক আরোপ করার। এই বিলটির মূল উদ্দেশ্য হলো রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলিকে চাপ দেওয়া, যাতে তারা মস্কোর যুদ্ধ অর্থনীতিকে আর্থিকভাবে সহায়তা না করে।
ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাশিয়ান ক্রুড তেল ক্রেতা। ২০২২ সালের পর থেকে ভারত সস্তা রাশিয়ান তেলের ওপর নির্ভর করে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারকে স্থিতিশীল রেখেছে। তবে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মতে, এই ক্রয় রাশিয়ার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে এবং ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছে।
বিলটি সেনেটে বিপুল সমর্থনে পাশ হয়েছে—৮৬ বনাম ১১ ভোটে। এর মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন ভারত, চীন, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ার মতো বড় ক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ভারত ইতিমধ্যেই ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে কিছু পণ্যে ৫০% শুল্কের মুখোমুখি হয়েছে। নতুন বিল কার্যকর হলে সেই হার দ্বিগুণ হয়ে ১০০% পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
এই পদক্ষেপ ভারতের জন্য বড় অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রপ্তানি—বিশেষত টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস ও আইটি পরিষেবা—প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কেও চাপ সৃষ্টি হবে, কারণ ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় যুক্ত।
তবে ভারতীয় নীতিনির্ধারকরা যুক্তি দিচ্ছেন যে রাশিয়ান তেল কেনা মূলত অর্থনৈতিক প্রয়োজনের কারণে, যাতে সাধারণ মানুষের জন্য জ্বালানি সাশ্রয়ী থাকে। এই অবস্থান ভবিষ্যতে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।
সব মিলিয়ে, মার্কিন সেনেটের এই বিল শুধু ভারত নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও কূটনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। যদি ট্রাম্প প্রশাসন ১০০% শুল্ক কার্যকর করে, তবে ভারতের অর্থনীতি ও মার্কিন সম্পর্ক উভয়ই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
#USTariffs #India #RussiaSanctions #GlobalTrade #USSenate