দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে বাংলা নববর্ষ। বৈশাখ মানেই নতুন সূচনা, নতুন আশা আর নতুন স্বপ্নের দিন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায়-'হে ভৈরব, হে রুদ্র বৈশাখ'-গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহের মাঝেও বাঙালি সাদরে স্বাগত জানায় এই মাসকে। নতুন পোশাক, মিষ্টিমুখ, আর পুজো-আর্চনার মধ্য দিয়েই শুরু হয় নতুন বছরের পথচলা।
বাংলা সৌর পঞ্জিকা অনুযায়ী চৈত্র সংক্রান্তির পর শুরু হয় নতুন বঙ্গাব্দ। বহু শতাব্দী ধরে এই দিনটি উদযাপিত হয়ে আসছে। আগে পয়লা বৈশাখ মূলত একটি ঋতুধর্মী বা কৃষিভিত্তিক উৎসব ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি বাঙালির সাংস্কৃতিক ও সামাজিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসবে পরিণত হয়েছে।
পয়লা বৈশাখের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রীতি হল হালখাতা। এদিন ব্যবসায়ীরা লাল কাপড়ে মোড়া নতুন খাতায় স্বস্তিক চিহ্ন এঁকে লক্ষ্মী-গণেশের পুজো করেন এবং নতুন হিসাবের সূচনা করেন। বিশ্বাস করা হয়, এর মাধ্যমে ব্যবসায় সারা বছর সমৃদ্ধি ও মঙ্গল বজায় থাকে। অনেক দোকানে এদিন গ্রাহকদের মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করারও রীতি রয়েছে।
এই বছর ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার নতুন বঙ্গাব্দের সূচনা হবে। এদিন বিশেষ শুভযোগ বা অমৃত যোগে লক্ষ্মী-গণেশের পুজো করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। পুজোর কয়েকটি বিশেষ সময়ও উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রাহ্ম মুহূর্ত: ভোর ০৫:০৪ থেকে ভোর ০৫:৫০ পর্যন্ত। প্রাতঃ সন্ধ্যা: ভোর ০৫:২৭ থেকে সকাল ০৬:৩৭ পর্যন্ত। অভিজিৎ মুহূর্ত: দুপুর ১২:২২ থেকে দুপুর ০১:১২ পর্যন্ত। বিজয় মুহূর্ত: দুপুর ০২:৫১ থেকে দুপুর ০৩:৪০ পর্যন্ত। গোধূলি মুহূর্ত: সন্ধ্যা ০৬:৫৬ থেকে সন্ধ্যা ০৭:২০ পর্যন্ত-এই সময়গুলোতে পুজো করলে শুভ ফল পাওয়া যায় বলে বিশ্বাস।
পয়লা বৈশাখের আগে চৈত্র সংক্রান্তির সেল-এরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এই সময় বাড়িঘর পরিষ্কার করা, পুরনো জিনিস সরিয়ে নতুনকে স্বাগত জানানো-এসবকেই নতুন বছরের প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এতে ঘরের নেতিবাচক শক্তি দূর হয় এবং ইতিবাচক শক্তির আগমন ঘটে।
দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা বাঙালিরা আজও আনন্দ, ঐতিহ্য ও আচার মেনে পয়লা বৈশাখ উদযাপন করেন। নতুন বছরের প্রথম দিন তাই শুধু উৎসব নয়, বরং নতুন আশা ও সমৃদ্ধির প্রতীক।