ফাল্গুনের আবিরে রাঙা সময়। একদিকে বাঙালির দোল-রাধা-কৃষ্ণের প্রেম আর বসন্তের মাধুর্য; অন্যদিকে হোলি-অশুভ শক্তির বিনাশের প্রতীক। কিন্তু এই আনন্দের উৎসবে কেন অনেকেই কালো পোশাক এড়িয়ে চলেন? শুধু সংস্কার, নাকি রয়েছে গভীর ব্যাখ্যা?
জ্যোতিষ মতে, কালো রঙ শনি দেবের প্রতীক-গাম্ভীর্য, সংযম ও বৈরাগ্যের চিহ্ন। বসন্তে সূর্যের তেজ বাড়ে, প্রাণশক্তি জেগে ওঠে প্রকৃতিতে। সূর্য ও শনি-এই দুই গ্রহের সম্পর্ককে জ্যোতিষশাস্ত্রে প্রতিকূল বলা হয়। তাই হোলির সময় কালো পোশাক নাকি সূর্যের ইতিবাচক শক্তিকে আড়াল করে দেয়, মেজাজে আনতে পারে অবসাদ বা খিটখিটে ভাব-এমনই মত অনেক জ্যোতিষীর।
ধর্মীয় বিশ্বাসও একই সুরে কথা বলে। শ্রীকৃষ্ণ বা চৈতন্য মহাপ্রভু-র চরণে আবির অর্পণের সময় উজ্জ্বল, পরিষ্কার পোশাক পরার রীতি প্রচলিত। প্রাচীনকাল থেকেই কালোকে শোকের প্রতীক ধরা হয়েছে, তাই শুভ কাজে লাল, হলুদ, বাসন্তী বা সাদা রঙের প্রাধান্য।
মনস্তত্ত্বও বলছে, রঙের সঙ্গে মস্তিষ্কের ‘সেরোটোনিন’ হরমোনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। উজ্জ্বল রঙ ইতিবাচক শক্তি জাগায়, উৎসবের উন্মাদনা বাড়ায়। অন্যদিকে কালো রঙের গাম্ভীর্য ও একাকীত্বের বার্তা উৎসবের প্রাণচাঞ্চল্যের সঙ্গে মেলে না।
তাই দোলে সাদা পোশাকের এত কদর। সাদা শুদ্ধতার প্রতীক-একটি ক্যানভাস, যেখানে সব রঙ সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে। বৈজ্ঞানিক দিক থেকেও মার্চের গরমে হালকা সুতির সাদা পোশাক শরীর ঠান্ডা রাখে ও ঘাম শুষে নেয়। জ্যোতিষ মতে, উজ্জ্বল রঙ মানুষের ‘আউরা’ শক্তিশালী করে, যা ভিড়ের মধ্যে মানসিক সুরক্ষা দেয়। অতএব, কালো ফ্যাশনে যতই ‘ইন’ হোক, দোল-হোলির দিনে উজ্জ্বল রঙই আনন্দের প্রকৃত সঙ্গী।