হিন্দু ধর্মে শক্তি, ভক্তি এবং সাহসের প্রতীক হিসেবে পূজিত হন হনুমান। রামভক্ত এই দেবতাকে সংকটমোচন বলেও ডাকা হয়। বিশ্বাস করা হয়, তাঁর আশীর্বাদ পেলে জীবনের বাধা-বিপত্তি দূর হয় এবং সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি আসে। বিশেষত মঙ্গলবার দিনটি হনুমানজির উপাসনার জন্য অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।
পুরাণ মতে, বানররাজ কেশরী ও মাতা অঞ্জনীর পুত্র হনুমান ছিলেন অসাধারণ শক্তিধর। রামায়ণে তাঁর বীরত্ব ও ভক্তির বহু কাহিনি পাওয়া যায়। সীতাকে খুঁজে বের করা থেকে শুরু করে রামের নানা কাজে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাই তাঁকে পবনপুত্র ও বজরঙ্গবলি নামেও ডাকা হয়।
বিশ্বাস করা হয়, মঙ্গলবারে সঠিক নিয়মে হনুমানজির পুজো করলে জীবনের নানা সমস্যা দূর হতে পারে এবং অর্থকষ্ট থেকেও মুক্তি মিলতে পারে। শাস্ত্রে কয়েকটি সহজ নিয়মের কথা বলা হয়েছে-
১. তুলসী পাতা অর্পণ:
হনুমানজিকে তুলসীপাতা নিবেদন করলে তাঁর বিশেষ কৃপা লাভ হয় বলে বিশ্বাস।
২. লাড্ডু নিবেদন:
হনুমানজির প্রিয় নৈবেদ্য হল লাড্ডু। তাই মঙ্গলবার পুজোর সময় লাড্ডু নিবেদন করলে তা অত্যন্ত শুভ মনে করা হয়।
৩. 'শ্রীরাম' লেখা পতাকা:
পুজোর সময় হনুমানের সামনে 'শ্রীরাম' লেখা পতাকা রাখলে জীবনের বাধা-বিপত্তি দূর হয় বলে মনে করা হয়।
৪. পান অর্পণ:
মঙ্গলবার কোনও গুরুত্বপূর্ণ কাজে বেরোনোর আগে হনুমানজিকে পান অর্পণ করলে কাজে সাফল্য আসে- এমন বিশ্বাস বহু ভক্তের।
৫. রাম নাম জপ:
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ভক্তিভরে 'রাম' নাম জপ করা। কারণ হনুমানজির কাছে ভক্তি ও রামনামই সবচেয়ে প্রিয়।
ভক্তদের বিশ্বাস, এই নিয়মগুলি মেনে পুজো করলে বজরঙ্গবলির আশীর্বাদ লাভ করা যায়। এতে সংসারের অশান্তি দূর হয়, আটকে থাকা কাজ সম্পন্ন হয় এবং জীবনে আসে নতুন সম্ভাবনা ও সমৃদ্ধি।