হিন্দু ধর্মে রাম নবমী অত্যন্ত পবিত্র একটি তিথি। বিশ্বাস করা হয়, চৈত্র মাসের শুক্লা নবমীতেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন রাম... যিনি বিষ্ণুর সপ্তম অবতার। ধর্মীয় মতে, এই দিনে ভক্তিভরে রামচন্দ্রের আরাধনা করলে জীবনের দুঃখ-কষ্ট দূর হয় এবং সংসারে শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে।
২০২৬ সালে রাম নবমীর নবমী তিথি শুরু হচ্ছে ২৬ মার্চ সকাল ১১টা ৪৮ মিনিটে এবং চলবে ২৭ মার্চ সকাল ১০টা ০৬ মিনিট পর্যন্ত। বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, এই শুভ দিনে কিছু বিশেষ জিনিস ঘরে আনলে শুধু শ্রীরামই নন, বরং মা লক্ষ্মী ও হনুমানের আশীর্বাদও পাওয়া যায়। এতে গৃহের নেতিবাচক শক্তি দূর হয়ে সৌভাগ্য বৃদ্ধি পায়।
১. সোনা বা হলুদ বস্ত্র- বাস্তু মতে, রাম নবমীর দিন সোনা কেনা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। এতে লক্ষ্মীদেবী প্রসন্ন হন এবং সংসারে আর্থিক উন্নতি ঘটে। তবে সোনা কেনা সম্ভব না হলে একটি নতুন হলুদ পোশাক বা হলুদ কাপড় ঘরে আনাও শুভ। হলুদ রং দেবগুরু বৃহস্পতির প্রতীক, যা সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধির প্রতীক।
২. রুপোর মুদ্রা- এই দিনে একটি রুপোর কয়েন কিনে পুজোর স্থানে রাখলে অর্থনৈতিক উন্নতি হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। পুজোর পর সেটি লাল কাপড়ে মুড়ে আলমারি বা সিন্দুকে রেখে দিলে আয় বৃদ্ধি এবং সঞ্চয় বাড়তে পারে।
৩. হলুদ শঙ্খ- হিন্দু ধর্মে শঙ্খ অত্যন্ত পবিত্র প্রতীক। রাম নবমীর দিনে একটি নতুন হলুদ শঙ্খ ঘরে আনলে বাস্তুদোষ নষ্ট হয় এবং শঙ্খধ্বনির মাধ্যমে ঘরের নেতিবাচক শক্তি দূর হয়ে ইতিবাচক শক্তির আগমন ঘটে।
৪. গেরুয়া বা হলুদ পতাকা- এই দিন বাড়ির ছাদে বা উত্তর-পূর্ব দিকে গেরুয়া রঙের পতাকা লাগানো শুভ বলে মনে করা হয়। এটি বিশেষত হনুমানের পতাকা হিসেবে ধরা হয়, যা অশুভ শক্তি ও বিপদ থেকে পরিবারকে রক্ষা করে।
৫. তুলসী চারা- তুলসী হল বিষ্ণুর অত্যন্ত প্রিয়। তাই রাম নবমীর দিন ঘরে একটি তুলসী গাছ রোপণ করা অত্যন্ত শুভ। প্রতিদিন তুলসীতলায় প্রদীপ জ্বালালে গৃহের অমঙ্গল দূর হয় এবং সংসারে শান্তি বজায় থাকে।