আষাঢ় মাসের সাত তারিখে অম্বুবাচী শুরু হয়। অসমের নীলাচল পর্বতে কামাখ্যা মন্দিরে এই অম্বুবাচী উৎব পালন করা হয়। কিন্তুঅম্বুবাচী কি? কখন আরম্ভ হয়? কি করণীয়? আজ এই বিষয় নিয়েই আলোচনা করব।
অম্বুবাচী নিয়ে আলোচনা করার আগে আমরা পৌঁছাব পৌরাণিক য়ুগে। প্রজাপতি দক্ষ(দক্ষিণা) রাজার প্রিয় কন্যা সতী বাবার অমতে মহাদেব শিবকে বিয়ে করেন। রাগে ক্ষুব্ধ দক্ষ এই ঘটনার বদলা নেওয়ার জন্য একটা যজ্ঞ শুরু করেন। তাতে জামাই শিবকে আমন্ত্রণ জানানো হয় না। সতী যজ্ঞ স্থলে এলে সবাই মিলে শিবের বদনাম শুরু করে। পতি নিন্দা সহ্য করতে না পেরে সতী দেহ ত্যাগ করেন।সংবাদ পেয়ে মহাদেব যজ্ঞস্থল লন্ডভন্ড করে ও সতীর দেহ কাঁধে নিয়ে প্রলয় নৃত্য শুরু করে। দেবতারা ভয় পেয়ে শ্রীবিষ্ণুর শরনাপন্ন হল। বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র দ্বারা সতীর দেহকে ৫১ খন্ডে বিভক্ত করল। সতী দেহের এক খন্ড অর্থাৎ যোনি এই কামাখ্য়ায় পতিত হয়। গড়ে ওঠে পীঠস্থান। কিন্তু অম্বুবাচীর সঙ্গে কামাখ্যার সম্পর্ক কি?
ভারতীয় জ্যোতিষ ও পৌরাণিক মতে রবি গ্রহ যখন মৃগশিরা নক্ষত্রের তিন চরণ শেষ করে ও আর্দ্রা নক্ষত্রে প্রবেশ করে তখন অম্বুবাচী শুরু হয়। বাংলায় সহজ একটা প্রবাদ আছে- কিসের বার কিসের তিথি,আষাঢ়ের ৭ তারিখ অম্বুবাচী।। আষাঢ় মাসে যে বারে যে সময় রবি মিথুন রাশিতে প্রবেশ করে, ঠিক পরের সপ্তাহে সেইবারে সেই সময়ে অম্বুবাচী আরম্ভ হয়। সতীমাকে ধরিত্রীর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। অর্থাৎ এই সময় সতী মায়ের যোনি ঋতুবতী হয়। সতী মা রজঃস্বলা হওয়ায় কামাখ্যা মন্দির আপনা থেকেই বন্ধ হয়ে যায়। ঋতুশ্রাব হওয়ায় উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি পায় । তখন মাটিতে কৃষি কাজ বন্ধ থাকে। তিনদিন অম্বুবাচী পালন করা হয়।
অম্বু মানে জল, বাচী বাঁচানো বা বৃদ্ধি করা। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় বলা হয়, এই সময় বর্ষার আগমণ ঘটে। ফলে ধরিত্রী ফসল উৎপাদনে সক্ষম হয়। হিন্দু সনাতন ধর্মের লোকেরা ধুমধাম করে পালন করে এই দিনটিকে।
অম্বুবাচী চলাকালিন নিম্নের কাজগুলি করবেন না-
১) মন্দির বা ঠাকুর ঘরের দেবী মুর্তি বা ফটো লালশালু কাপড়ে ঢেকে দিন।
২) পূজার মন্ত্র উচ্চারণ করবেন না, ধুপ দীপ জ্বালিয়ে প্রনাম করুন।
৩) শুভ ও মাঙ্গলিক কাজ করা নিষেধ।
৪) ধরিত্রী মা অশৌচ থাকায় সাধু সন্ন্যাসীরা আগুনে রান্না করা খাবার খান না।
৫) কৃষকেরা এই সময় হালচাষ বন্ধ রাখেন।