আগেকার দিনে, মা-ঠাকুমার আর চুলের যত্ন বলতে রোজকার তেল মাখাকে বোঝাত। আর, সময় সুযোগ হলে মাসে একবার করে শ্যাম্পু, এই ছিল সেই সময়ের চুলের সাজ। আর, এইসব কিছু ছাড়াও যদি কেউ চুলের পরিচর্যা করতে তাহলে তাঁরা মূলত হেনাই করে থাকত। হেনা অনেকের কাছে চুলের পুষ্টির কাজ করে। এই হেনা আবার এবার ভারতেই নয় বরং মিশরেও ব্যবহার করা হত। তবে, এদিকে আবার যারা কেশচর্চা শিল্পীরা রয়েছেন তারা বলছেন, চুলের গ্রোথ আনার জন্য কিংবা স্বাস্থ্য ভালো করার জন্য কেবল হেনা মাখলেই চলবে না বরং তার সঙ্গে আরো কয়েকটি উপাদান মিশিয়ে মাখলে তাঁর ভালো ফল তাড়াতাড়ি পাওয়া যাবে। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক, হেনার সঙ্গে কী কী মিশিয়ে মাখলে চুলের জন্য ভালো ফল পাওয়া যায়?
ডিম ও দই:
হেনা ব্যবহারের পর চুল অনেকের খসখসে হয়ে যায়। এটি আটকাতে হেনার সঙ্গে একটি ডিম এবং ২-৩ চামচ টক দই মিশিয়ে নিন। ডিমের প্রোটিন এবং দইয়ের ল্যাকটিক অ্যাসিড চুলকে নরম ও সিল্কি করে।
লেবুর রস ও মেথি:
যদি মাথায় খুশকি থাকে, তবে হেনা ভেজানোর সময় তাতে ২ চামচ মেথি গুঁড়ো মেশান। মাখার আগে তাতে অর্ধেক লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এটি স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
আমলকী ও চা পাতা:
হেনা ভেজানোর জন্য সাধারণ জলের বদলে চা পাতা ফোটানো জল ব্যবহার করুন। এর সাথে ২ চামচ আমলকী গুঁড়ো মিশিয়ে দিন। আমলকী চুলের গোড়া মজবুত করে এবং প্রাকৃতিক কালো ভাব ধরে রাখে।
কলা ও মধু:
যাদের চুল খুব শুষ্ক, তারা হেনার প্যাক ধুয়ে ফেলার আগে মিশ্রণে একটি পাকা কলা চটকে এবং এক চামচ মধু মিশিয়ে নিতে পারেন। এটি ন্যাচারাল ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে।
বিটের রস:
হেনাতে বিটের রস মিশিয়ে চুলে মাখলে চুলে লালচে আভা পাওয়া যায়। এছাড়াও, এই রস থেকে ভিটামিন, খনিজ-এর মতন প্রয়োজনীয় উপাদান পাওয়া যায়। স্ক্যাল্পে সেবাম ক্ষরণের নিয়ন্ত্রণ করে ও খুশকি তাড়ায়।
অ্যালোভেরা জেল:
যদি কারোর মাথার ত্বক স্পর্শকাতর হয় তাঁরা অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারেন। এই জেল ব্যবহার করলে শুষ্ক স্ক্যাল্প, রুক্ষ চুল ও খুশকির মতন সমস্যাও সমাধান হতে পারে।