শুষ্ক ...">
শুষ্ক ত্বক অনেকেরই সাধারণ সমস্যা, বিশেষ করে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সময় এটি আরও প্রকট হয়ে ওঠে। ত্বক রুক্ষ, টানটান অনুভব হওয়া, খসখসে ভাব বা কখনও চুলকানির মতো সমস্যাও দেখা যায়। তাই নিজের জন্য একটি সঠিক বডি কেয়ার রুটিন তৈরি করা খুবই জরুরি, যাতে ত্বক থাকে নরম, মসৃণ ও সুস্থ। প্রথমেই আসি ক্লিনজিং-এর কথায়। শুষ্ক ত্বকের জন্য সবসময় মাইল্ড ও ময়েশ্চারাইজিং বডি ওয়াশ ব্যবহার করা উচিত। অতিরিক্ত সাবান বা হার্শ ক্লিনজার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল সরিয়ে দেয়, যা শুষ্কতা আরও বাড়িয়ে তোলে। তাই সালফেট-ফ্রি এবং হাইড্রেটিং উপাদানসমৃদ্ধ ক্লিনজার বেছে নেওয়াই ভালো।
স্নানের সময়ও কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। খুব গরম জল দিয়ে স্নান করলে ত্বকের আর্দ্রতা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তাই কুসুম গরম জল ব্যবহার করা উচিত। এছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে স্নান না করাই ভালো, কারণ এতে ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে পড়ে। স্নানের পরপরই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা শুষ্ক ত্বকের যত্নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই ভালো মানের বডি লোশন বা ক্রিম লাগালে তা ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। শিয়া বাটার, গ্লিসারিন, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড বা নারকেল তেলযুক্ত পণ্য শুষ্ক ত্বকের জন্য বিশেষভাবে উপকারী।
সপ্তাহে এক বা দুইবার এক্সফোলিয়েশন করাও প্রয়োজন, তবে খুব হালকা স্ক্রাব ব্যবহার করতে হবে। এতে ত্বকের মৃত কোষ দূর হয় এবং ময়েশ্চারাইজার আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারে। তবে অতিরিক্ত স্ক্রাবিং করলে ত্বক আরও সংবেদনশীল হয়ে যেতে পারে, তাই পরিমিত ব্যবহার জরুরি। শুধু বাইরের যত্ন নয়, ভেতর থেকেও ত্বককে সুস্থ রাখা দরকার। পর্যাপ্ত জল পান করা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ ডায়েট অনুসরণ করা ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ফল, শাকসবজি ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ত্বকের জন্য খুবই উপকারী।
সবশেষে, বাইরে বের হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে ভুলবেন না। অনেকেই মনে করেন শুষ্ক ত্বকে সানস্ক্রিনের প্রয়োজন নেই, কিন্তু সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি ত্বককে আরও শুষ্ক ও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সঠিক যত্ন আর নিয়ম মেনে চললে শুষ্ক ত্বকও হয়ে উঠতে পারে কোমল, উজ্জ্বল এবং স্বাস্থ্যবান। তাই আজ থেকেই শুরু করুন আপনার পারফেক্ট বডি কেয়ার রুটিন।