রোজকার জীবনে নিজেদের ভাল রাখা অত্যন্ত জরুরি। এই নিজেদের ভাল রাখার একটা খুব সহজ উপায় হল নিজের ত্বকের একটু যত্ন করা। তবে ত্বকের যত্নের তো অনেকগুলি ধাপ আছে। ফলে আজ আমরা তার একটি ও খুব গুরুত্বপূর্ণ ধাপ নিয়ে আলোচনা করব। আর সেটি হল টোনিং করা। ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করার পর টোনার ব্যবহার করলে ত্বকের গভীরের ময়লা দূর হয়, পোরস পরিষ্কার থাকে এবং ত্বকের পিএইচ ব্যালান্স বজায় থাকে। তবে সব ত্বকের জন্য একই ধরনের টোনার উপযোগী নয়। ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক টোনার বেছে নেওয়াই সুস্থ ও সুন্দর ত্বকের চাবিকাঠি। আসুন তবে জেনে নেওয়া যাক কোন ধরনের ত্বকের ক্ষেত্রে কোন টোনার ব্যবহার করবেন।
শুষ্ক ত্বক বা ড্রাই স্কিনের ক্ষেত্রে অ্যালকোহলমুক্ত ও হাইড্রেটিং টোনার ব্যবহার করা উচিত। যেসব টোনারে গ্লিসারিন, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, রোজ ওয়াটার বা অ্যালোভেরা রয়েছে, সেগুলো শুষ্ক ত্বকে আর্দ্রতা জোগায় এবং ত্বক নরম রাখে। অ্যালকোহলযুক্ত টোনার শুষ্ক ত্বকের আর্দ্রতা আরও কমিয়ে দিতে পারে, তাই তা এড়ানো জরুরি।
তৈলাক্ত ত্বক বা ওয়েলি স্কিনের জন্য হালকা, তেলমুক্ত ও রিফ্রেশিং টোনার সবচেয়ে উপযোগী। যেসব টোনারে স্যালিসিলিক অ্যাসিড, উইচ হ্যাজেল বা টি ট্রি রয়েছে, সেগুলো অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ব্রণ হওয়ার ঝুঁকি কমায়। তবে অতিরিক্ত শক্ত টোনার ব্যবহার করলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে, তাই ভারসাম্য বজায় রাখা দরকার।
সংবেদনশীল ত্বক বা সেনসিটিভ স্কিনের ক্ষেত্রে খুবই সতর্ক হতে হয়। সুগন্ধিবিহীন, অ্যালকোহলমুক্ত ও মাইল্ড টোনার ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো। ক্যামোমাইল, ক্যালেন্ডুলা বা অ্যালোভেরা যুক্ত টোনার সংবেদনশীল ত্বকের জ্বালা ও লালচেভাব কমাতে সাহায্য করে।
মিশ্র ত্বক বা কম্বিনেশন স্কিনে সাধারণত টি-জোন অংশ তৈলাক্ত এবং গাল শুষ্ক থাকে। এই ত্বকের জন্য ব্যালান্সিং টোনার ব্যবহার করা উচিত, যা ত্বকের তেল ও আর্দ্রতার ভারসাম্য বজায় রাখে। প্রয়োজনে টি-জোনে আলাদা ও গালে আলাদা টোনারও ব্যবহার করা যেতে পারে।
ব্রণপ্রবণ বা অ্যাকনেপ্রোন স্কিনের জন্য অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও পোরস পরিষ্কারকারী টোনার উপকারী। তবে নিয়মিত ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করা জরুরি। ত্বকের ধরন বুঝে সঠিক টোনার ব্যবহার করলেই ত্বক থাকবে সুস্থ, উজ্জ্বল ও সতেজ।