বিয়ের বেনারসি মানেই শুধু একটি শাড়ি নয়...তা একরাশ স্মৃতি, আবেগ আর ঐতিহ্যের গল্প। বিশেষ করে বারানসীর ঐতিহ্যবাহী বেনারসি শাড়ি মানেই রাজকীয় আভিজাত্য। কিন্তু সময়ের সঙ্গে নকশা পুরনো হয়, রং ফিকে হয়। তাই বলে কি প্রিয় শাড়িটি আলমারিতে বন্দি থাকবে? একেবারেই নয়! একটু পরিকল্পনা আর সৃজনশীলতায় সেই সাবেকী বেনারসিই হয়ে উঠতে পারে আধুনিক ফ্যাশনের কেন্দ্রবিন্দু।
বেনারসি জ্যাকেট বা কেপ- পুরনো বেনারসি দিয়ে তৈরি করুন স্টাইলিশ লং জ্যাকেট বা কেপ। একরঙা কুর্তা, গাউন বা এমনকি জিনস-টপের সঙ্গেও এই জ্যাকেট অনায়াসে মানিয়ে যায়। ভারী বর্ডার থাকলে সেটিকে সামনে বা হাতায় ব্যবহার করুন... মুহূর্তে বদলে যাবে লুক।
আভিজাত্যে ভরা লেহেঙ্গা- শাড়ির সম্পূর্ণ কাপড় ব্যবহার করে বানাতে পারেন ঘেরওয়ালা লেহেঙ্গা। কনট্রাস্ট ওড়না বা ক্রপ ব্লাউজের সঙ্গে এই পোশাক বিয়েবাড়ি বা উৎসবে নজর কাড়বেই। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার এক নিখুঁত মেলবন্ধন।
ইন্দো-ওয়েস্টার্ন ক্রপ টপ- শাড়ির আঁচলের ভারী কাজ ব্যবহার করে বানান একটি জমকালো ক্রপ টপ। জিনস, পালাজো বা স্কার্টের সঙ্গে এটি দারুণ মানায়। তরুণ প্রজন্মের কাছে এই স্টাইল এখন ভীষণ জনপ্রিয়।
লং কুর্তা বা আনারকলি- পুরো শাড়ি কেটে তৈরি করুন লম্বা কুর্তা বা আনারকলি। বর্ডার ব্যবহার করুন হাতা বা কলিতে। সামান্য গয়না আর সাদামাটা লেগিংসেই আপনি হয়ে উঠবেন অনুষ্ঠানের আকর্ষণের কেন্দ্র।
বেনারসি দোপাট্টা- শাড়ির ভালো অংশ দিয়ে বানিয়ে নিন একটি জমকালো ওড়না। সাধারণ সালোয়ার স্যুটের সঙ্গেও এই ওড়না আপনার সাজে এনে দেবে উৎসবের আবহ।
ফ্যাশনেবল পোটলি ব্যাগ- অবশিষ্ট কাপড় দিয়ে বানানো পোটলি ব্যাগ বিয়ের সাজে দারুণ মানানসই। জরি ও সূক্ষ্ম সুতোর কাজ ব্যাগটিকে করে তোলে রাজকীয়।
ঘর সাজানোর উপকরণ- যদি শাড়ির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে ভালো অংশ দিয়ে বানাতে পারেন কুশন কভার, টেবিল রানার বা ওয়াল হ্যাঙ্গিং। ঘরের অন্দরসজ্জায় আসবে ঐতিহ্যের ছোঁয়া।
সিল্ক ব্লেজার- অফিস পার্টি বা সন্ধ্যার আড্ডায় বেনারসি ব্লেজার হতে পারে চমক। পাশ্চাত্য পোশাকের সঙ্গেও এটি অনায়াসে মানিয়ে যায়।
পুরনো বেনারসি মানেই অতীত নয়... একটু সৃজনশীলতাই তাকে করে তুলতে পারে নতুন ফ্যাশনের ট্রেন্ডসেটার। আলমারির কোণে ফেলে না রেখে, স্মৃতির শাড়িটিকেই দিন আধুনিকতার ছোঁয়া।