কথায় আছে জলই জীবন, জীবনের আর এক নাম জল, অথচ এই জল অপচয় হচ্ছে দিনের পর দিন। সভ্যতার অগ্রগতি একটার পর একটা প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস করে চলেছে। এবার বোধ হয় জলের পালা। যেভাবে অযথা অপচয় হচ্ছে জল, তারজন্য চাই গনসচেতনতা। জল কোনোভাবেই নষ্ট করা চলবে না। এজন্য মানুষকে সচেতন হতে হবে। শহরে কোথাও কোথাও জলের কল বেয়ে তোড়ে জল বেরিয়ে যাচ্ছে, অথচ কেউ এগিয়ে এসে কলটা বন্ধ করে না, আবার কোথাও কোথাও দেখি কল বন্ধ করে। যে অঞ্চলের মানুষ সর্বদা জলের সুখ পেয়ে থাকেন, তারা অনেক সময় অযথা জল নষ্ট করেন অথব্য জল নষ্ট হলেও সে ব্যাপারে উদাসীন। এই মানসিকতা ত্যাগ করতে হবে।
জল সংরক্ষণ করে রাখা একটি বিশেষ কর্তব্য। বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করা জলসংকট দূর করার একটি উপায়; তবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বৃষ্টির জল সংরক্ষিত না হলে উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ হবে। ভূগর্ভস্থ জলের স্তর যাতে নেমে না যায়, তার উপায় বার করতে হবে। পাশাপাশি- জলকে আর্সেনিক মুক্ত করতে হবে। এখন থেকে জলের অপচয় বন্ধ না করা হয়, তাহলে আগামী দিনে সারা পৃথিবী জুড়ে এই জলের জন্যেই হয়ত বেঁধে যেতে পারে জলযুদ্ধ।
অন্যদিকে মানুষ যেসব রোগে আক্রান্ত হয়, তার অনেকগুলিই জলবাহিত। সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য- জনডিস, আমাশয়, কলেরা, এবং চর্মরোগ। আজকের পৃথিবীর মানুষের একটা বড় অংশ জল কষ্টের সম্মুখীন, কারণ প্রাত্যাহিক জীবনে আমাদের যে জলের দরকার হয়, সেটা মিষ্টি জলের অভাব ঘটে চলেছে দিনের পর দিন। খেয়াল রাখতে হবে হরপ্পা সভ্যতার ধ্বংসের অন্যতম আনুমানিক কারণ জলসংকট। তাই এই পূনরাবৃত্তি যেন আর না হয় সেদিকটা-আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে জল বাঁচান জীবন বাঁচান। (সমাপ্ত)