অত্যাধুনিকতার যুগে, রূপচর্চার জগতে কিছুদিন অন্তর অন্তরই এমন সব নামের প্রকাশ ঘটছে যা কিনা আগে কেউ কোনোদিন শোনেনি। এখন যেমন চুলের যত্ন করার জন্য হেয়ার বোটক্স ব্যাপারটা খুবই 'ইন ফ্যাশন'। এই নামটা শুনেই অনেকেই হয়তো ভাবে মুখের মধ্যে ইনজেকশন দিয়ে হয়তো কোন কিছু করা হবে। কিন্তু আদতে তা একেবারেই নয়। এই পদ্ধতিটি চুলের জন্য একেবারেই আলাদা। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক বোটক্স কী? কিংবা এই পদ্ধতি আদতে চুলের জন্য কতটা উপকারী?
হেয়ার বোটক্স করা আদতে কোন ইনজেকশন দেওয়া নয় বরং এটা একটা গভীর কন্ডিশনিং ট্রিটমেন্ট। এই ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে ভিটামিন নানান ধরনের প্রোটিন কোলাজেন এন্টি অক্সিডেন্ট কেরাটিন এবং অ্যামিনো এসিড সমৃদ্ধ একটি ক্রিম ভালোভাবে চুলে লাগানো হয়। চুলে লাগালে এটি চুলের ভাঙা অংশ ভরাট করা থেকে শুরু করে চুলের ভিতরে পুষ্টি যোগানো এমনকি কিউটিকল মসৃণ করার মতন কাজও করে থাকে।
হেয়ার বোটক্স বিশেষত ক্ষতিগ্রস্ত রুক্ষ শুষ্ক চুলের জন্য খুব ভালো কাজ করে। বিশেষত যারা নিয়মিত চুলে হিট দিয়ে নানান ধরনের স্টাইলিং করে থাকেন, কিংবা যাদের চুলে নিয়মিত কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট হয় তাদের জন্য এই বোটক্স বিষয়টি খুব ভালো কাজ করে। হেয়ার বোটক্স করলে চুল উজ্জ্বল ও ঝরঝরে, নরম হয়। এই এই পদ্ধিতিটি চুলকে সোজা করে না বরং চুলের স্বাভাবিক টেক্সচার ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
এখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, এই হেয়ার বোটক্স কারা কারা করতে পারবেন? এই বিশেষ পদ্ধতি তাঁদের করলে খুব ভালো কাজে দেবে যাঁদের চুল খুব শুষ্ক, রুক্ষ কিংবা প্রাণহীন সেইসব চুলের জন্য ভালো কাজ করে। তবে, কেউ যদি চুলে তাত্ক্ষণিক গ্লো কিংবা স্মুথনেস চায় তাহলে এটা করানো যেতে পারে।
কিন্তু, খেয়াল রাখতে হবে যাঁদের চুল খুব স্পর্শকাতর, কিংবা যাঁদের মাথায় মারাত্মক ইনফেকশন আছে, তাঁদের আবার হেয়ার বোটক্স করালে সমস্যা হতে পারে। এদিকে, আবার যাঁদের হরমোনের জন্য চুল পড়ে কিংবা গর্ভবতী মহিলা রয়েছে তাদের চুলে এই বোটক্স করা উচিত নয়। এছাড়া, তেলতেলে স্ক্যাল্পে এই বোটক্স করালে চুল ভারী ও চিটচিটে লাগতে পারে।