ঘন ও সুন্দর চোখের পাপড়ি মুখের সৌন্দর্য অনেকটাই বাড়িয়ে তোলে। কিন্তু ধুলোবালি, ভুল কসমেটিক ব্যবহার, হরমোনজনিত সমস্যা বা পুষ্টির অভাবে অনেকেরই চোখের পাপড়ি পাতলা হয়ে যায় বা পড়ে যেতে থাকে। চোখের পাপড়ির ঘনত্ব বাড়াতে কিছু প্রাকৃতিক ও সঠিক যত্ন খুবই কার্যকর হতে পারে।
প্রথমেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দেওয়া জরুরি। চোখের মেকআপ ব্যবহার করলে ঘুমানোর আগে অবশ্যই তা ভালোভাবে তুলে ফেলতে হবে। মেকআপ রেখে ঘুমালে পাপড়ির গোড়া দুর্বল হয়ে যায় এবং পাপড়ি পড়তে শুরু করে। হালকা ক্লিনজার বা নারকেল তেল দিয়ে মেকআপ তোলা ভালো।
প্রাকৃতিক তেল চোখের পাপড়ি ঘন করতে দারুণ সহায়ক। ক্যাস্টর অয়েল, অলিভ অয়েল বা নারকেল তেল নিয়মিত ব্যবহার করলে পাপড়ির গোড়া মজবুত হয়। রাতে ঘুমানোর আগে পরিষ্কার মাসকারা ব্রাশ বা কটন বাডে সামান্য তেল নিয়ে আলতো করে পাপড়িতে লাগাতে পারেন। নিয়মিত ব্যবহার করলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পার্থক্য বোঝা যায়।
অ্যালোভেরা জেলও পাপড়ির বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এতে থাকা ভিটামিন ও এনজাইম পাপড়িকে পুষ্টি জোগায়। তাজা অ্যালোভেরা জেল রাতে পাপড়িতে লাগিয়ে রেখে সকালে ধুয়ে ফেলতে পারেন।
পুষ্টিকর খাবার চোখের পাপড়ির ঘনত্ব বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রোটিন, ভিটামিন-ই, বায়োটিন ও আয়রনসমৃদ্ধ খাবার যেমন ডিম, বাদাম, শাকসবজি ও ফল নিয়মিত খেলে পাপড়ির বৃদ্ধি ভালো হয়। পাশাপাশি পর্যাপ্ত জল পান করাও জরুরি।
অতিরিক্ত আইল্যাশ কার্লার বা নকল পাপড়ি ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলো পাপড়ির ক্ষতি করে। চোখে চুলকানি বা অ্যালার্জি হলে পাপড়ি ঘষা থেকেও বিরত থাকতে হবে।
নিয়মিত যত্ন, প্রাকৃতিক উপাদান ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে চোখের পাপড়ি স্বাভাবিকভাবেই ঘন, লম্বা ও সুন্দর হয়ে উঠবে। ধৈর্য ধরে যত্ন নিলেই মিলবে কাঙ্ক্ষিত ফল।