টলিউডে নেমেছে গভীর শোকের ছায়া। মাত্র ৪০ বছর বয়সে না-ফেরার দেশে চলে গেছেন অভিনেতা, লেখক ও নাট্যব্যক্তিত্ব রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Arunoday Banerjee)। রবিবার ওড়িশার তালসারির সমুদ্রতটে শুটিং করতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি। সোমবার সকালেও তাঁর বিজয়গড়ের বাড়ির সামনে ছিল মানুষের ঢল-প্রিয় 'বাবিন'-কে শেষবার দেখার জন্য ভিড় জমিয়েছিলেন অনুরাগীরা।
ক্যারিয়ারের শুরুতেই 'চিরদিনই তুমি যে আমার' ছবির সাফল্যে রাতারাতি জনপ্রিয়তা পান রাহুল। তবে শুধু নায়ক হিসেবে নয়, বরং একজন প্রকৃত অভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার লড়াইই তাঁকে আলাদা করে তুলেছিল। সিনেমা, ধারাবাহিক, নাটক এমনকি যাত্রামঞ্চ-অভিনয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের দক্ষতার ছাপ রেখেছিলেন তিনি।
তাঁর মৃত্যুর পর হঠাৎই আলোচনায় উঠে এসেছে ২০১৮ সালে লেখা একটি প্রবন্ধ। 'আর্টিস্ট ফোরাম'-এর পত্রিকায় প্রকাশিত সেই লেখার নাম ছিল 'বান্ধবীরা'। সেখানে রাহুল লিখেছিলেন, 'মৃত্যুর পর নিজেকে বেশ রাজকীয় লাগছে আমার… এমনিতেই মৃত্যুটা বেমক্কা হয়েছে… বিয়াল্লিশ তো যাওয়ার বয়স নয়।' আশ্চর্যের বিষয়, সেই লেখাতেই তিনি জলে ডুবে মৃত্যুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। আজ বাস্তবে সমুদ্রের জলে ডুবে তাঁর মৃত্যু হওয়ায় অনেকে এটিকে ভয়াবহ সমাপতন বলেই মনে করছেন।
এই ঘটনার পর টলিউডে আরেকটি পুরনো স্মৃতিও ফিরে এসেছে। সত্তরের দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কেয়া চক্রবর্তীও শুটিং চলাকালীন জলে ডুবে প্রাণ হারিয়েছিলেন। সেই ইতিহাস যেন আবার ফিরে এল রাহুলের অকাল প্রয়াণে।
অন্যদিকে এই মৃত্যুকে ঘিরে উঠেছে একাধিক প্রশ্নও। ময়নাতদন্তে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় জলের নিচে থাকার কারণেই তাঁর ফুসফুসে প্রচুর বালি ও জল ঢুকে পড়েছিল। ফলে প্রশ্ন উঠছে-শুটিংয়ের সময় কি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল? লাইফগার্ড বা অনুমতি ছাড়া কি সমুদ্রে শুটিং করা হয়েছিল?
ওড়িশা পুলিস ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। তবে সব প্রশ্নের উত্তর মিললেও আর ফিরে আসবেন না সেই প্রাণবন্ত মানুষটি। অভিনয় আর শব্দের জাদুতে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় হয়তো এভাবেই চিরদিন বেঁচে থাকবেন স্মৃতির মঞ্চে।