গত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল আলোচনার কেন্দ্রে অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তী এবং তাঁর প্রাক্তন ‘কূটনি বৌদি’ সুস্মিতার পারিবারিক দ্বন্দ্ব। একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলায় নেটদুনিয়া কার্যত দু’ভাগে বিভক্ত। এই বিতর্কের মাঝেই মুখ খুললেন বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তাঁর একটি ফেসবুক পোস্ট নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে।
তসলিমার মতে, মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা যৌন অভিরুচি নিয়ে সমাজের এত মাথাব্যথার কোনও প্রয়োজন নেই। তাঁর বক্তব্য, দু’জন বা একাধিক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পারস্পরিক সম্মতিতে যদি কোনও সম্পর্ক তৈরি হয়, তা নৈতিক বা আইনি অপরাধ নয়।
সুস্মিতা অভিযোগ করেছেন, সায়ক সমকামী এবং এক শারীরিক সম্পর্কের সময় গুরুতরভাবে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে তসলিমা বলেন, সম্পর্কের মধ্যে দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে-তা নিয়ে চরিত্রহনন করা বা কাউকে অপমান করা আধুনিক সমাজের লক্ষণ নয়।
এছাড়াও ‘থ্রিসাম’ বা একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গেও তাঁর অবস্থান স্পষ্ট। তসলিমার মতে, যদি সেখানে কোনও জোরজবরদস্তি, হিংসা বা আইনি অপরাধ না থাকে এবং সব পক্ষ সম্মত হয়, তবে সেটিকে অপরাধ বলা যায় না। কার ব্যক্তিগত জীবনে কে কীভাবে সম্পর্ক রাখবেন, তা তাঁদেরই সিদ্ধান্ত।
অন্যদিকে সায়ক ও তাঁর পরিবার অভিযোগ করেছেন, সুস্মিতা একাধিকবার বিয়ে করেছেন। এই প্রসঙ্গে তসলিমা বলেন, কেউ যদি জীবনে পাঁচবার বিয়ে করে সুখ খুঁজে পান, তাতেও অন্যের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। প্রতারণা বা জোরজবরদস্তি না থাকলে বিয়ের সংখ্যা দিয়ে কোনও মানুষকে বিচার করা উচিত নয়।
তসলিমা আরও মনে করিয়ে দেন, সম্পর্কের তিক্ততা প্রকাশ্যে এলেই সমাজ অনেক সময় সেটিকে কৌতূহল বা কৌতুকে পরিণত করে। কিন্তু প্রকৃত আধুনিকতা হল অন্যের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পছন্দকে সম্মান জানানো।
তাঁর এই মন্তব্যে নেটিজেনদের মধ্যে আবারও শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক-ব্যক্তিগত স্বাধীনতা কোথায় শেষ হয়, আর সমাজের নৈতিকতার সীমা কোথায় শুরু হয়?