আজকাল অনেকেই অভিযোগ করেন—“সবসময় ঘুম পাচ্ছে”, “কোনো কাজ করতে ইচ্ছে করছে না”, কিংবা “শরীরে একদম এনার্জি নেই”। ব্যস্ত জীবনযাপন, মানসিক চাপ এবং অনিয়মিত অভ্যাসের কারণে এই সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা চলতে থাকলে তা শরীরের কোনো গোপন সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে।
সবসময় ঘুম ঘুম ভাব এবং দুর্বল লাগার অন্যতম প্রধান কারণ হলো পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন অন্তত ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। কম ঘুম হলে শরীর ও মস্তিষ্ক ঠিকভাবে বিশ্রাম পায় না, ফলে সারাদিন ক্লান্তি অনুভূত হয়।
খাদ্যাভ্যাসও এই সমস্যার বড় কারণ। শরীরে আয়রন, ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি বা প্রোটিনের ঘাটতি থাকলে দুর্বলতা ও অলসতা দেখা দেয়। বিশেষ করে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া থাকলে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়, যার ফলে সবসময় ক্লান্ত লাগে।
অতিরিক্ত মানসিক চাপ, উদ্বেগ কিংবা ডিপ্রেশন থেকেও এনার্জি কমে যেতে পারে। অনেক সময় মানুষ মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও তার প্রভাব শরীরে দেখা যায়—ঘুম বেশি পাওয়া, কাজের প্রতি অনীহা এবং সারাক্ষণ অবসাদ অনুভব করা এর সাধারণ লক্ষণ।
এছাড়া থাইরয়েড সমস্যা, ডায়াবেটিস, স্লিপ অ্যাপনিয়া বা দীর্ঘস্থায়ী কোনো রোগ থাকলেও অতিরিক্ত ঘুম ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। নিয়মিত মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহারের কারণেও ঘুমের গুণগত মান নষ্ট হয়।
এই সমস্যা দূর করতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত জল পান এবং হালকা ব্যায়াম করা জরুরি। পাশাপাশি মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করতে হবে। যদি দীর্ঘদিন ধরেও ক্লান্তি ও অতিরিক্ত ঘুমের সমস্যা না কমে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ সময়মতো কারণ শনাক্ত করতে পারলে বড় ধরনের শারীরিক জটিলতা এড়ানো সম্ভব।