মাথার নিচে বা ঘাড়ে ব্যথা আজকাল অনেকেরই সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার, ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানো কিংবা অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে এই ব্যথা দেখা দিতে পারে। তবে অনেক সময় এটি শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কিছু রোগেরও লক্ষণ হতে পারে। তাই ঘাড়ের ব্যথাকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়।
ঘাড়ে ব্যথার অন্যতম সাধারণ কারণ হলো পেশিতে টান ধরা। দীর্ঘক্ষণ একভাবে বসে কাজ করা বা মাথা নিচু করে মোবাইল ব্যবহার করলে ঘাড়ের পেশিতে চাপ পড়ে এবং ব্যথা শুরু হয়। আবার ভুল বালিশ ব্যবহার বা শক্ত বিছানায় ঘুমানোর ফলেও এই সমস্যা হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে ঠান্ডা লাগা বা হঠাৎ ঘাড়ে ঝাঁকুনি খেলেও ব্যথা দেখা দেয়।
তবে সব সময় সাধারণ কারণ নয়, কখনো কখনো এটি গুরুতর রোগের ইঙ্গিতও হতে পারে। যেমন সার্ভাইক্যাল স্পন্ডাইলোসিস, ডিস্কের সমস্যা, আর্থ্রাইটিস কিংবা স্নায়ুর চাপে ঘাড়ে তীব্র ব্যথা হতে পারে। যদি ব্যথার সঙ্গে হাত অবশ হয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা, জ্বর বা বমি বমি ভাব থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ এসব উপসর্গ মেনিনজাইটিস বা স্নায়বিক সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।
ঘাড়ের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে সঠিক ভঙ্গিতে বসা ও ঘুমানো খুব গুরুত্বপূর্ণ। কাজের ফাঁকে নিয়মিত বিরতি নেওয়া, হালকা ব্যায়াম করা এবং মোবাইল ব্যবহারে সচেতন হওয়া উচিত। প্রয়োজনে গরম সেঁক দিলে সাময়িক আরাম পাওয়া যায়। তবে ব্যথা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
সুতরাং, মাথার নিচে বা ঘাড়ে ব্যথা সাধারণ ক্লান্তির কারণেও হতে পারে, আবার বড় কোনো শারীরিক সমস্যার পূর্বাভাসও হতে পারে। তাই সময়মতো কারণ শনাক্ত করে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।