কানে কতটা আওয়াজ নেওয়া উচিত নয়—এই প্রশ্নটি আজকের যুগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক জীবনে আমরা প্রায়ই উচ্চ শব্দের পরিবেশে থাকি—যেমন ট্রাফিক, লাউডস্পিকার, হেডফোনে গান শোনা, কিংবা শিল্পকারখানার শব্দ। কিন্তু অতিরিক্ত আওয়াজ আমাদের শ্রবণশক্তির উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৮৫ ডেসিবেলের (dB) বেশি শব্দ দীর্ঘ সময় ধরে শোনা নিরাপদ নয়। উদাহরণস্বরূপ, ব্যস্ত রাস্তার ট্রাফিকের শব্দ প্রায় ৮৫-৯০ dB হতে পারে, যা দীর্ঘক্ষণ শুনলে কানের ক্ষতি হতে পারে। ১০০ dB বা তার বেশি শব্দ, যেমন কনসার্ট বা হেডফোনে জোরে গান শোনা, খুব অল্প সময়েই শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ১২০ dB-এর উপরে শব্দ (যেমন বিস্ফোরণ বা সাইরেন) তৎক্ষণাৎ কানে ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে এবং স্থায়ী ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করে।
আমাদের কানের ভিতরে সূক্ষ্ম হেয়ার সেল থাকে, যা শব্দ তরঙ্গকে স্নায়ু সংকেতে রূপান্তর করে মস্তিষ্কে পাঠায়। অতিরিক্ত শব্দ এই কোষগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং একবার নষ্ট হয়ে গেলে এগুলো আর পুনরুদ্ধার হয় না। এর ফলে ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তি কমে যেতে পারে, এমনকি সম্পূর্ণ বধিরতাও ঘটতে পারে।
বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম হেডফোন বা ইয়ারফোন ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ ভলিউমে গান শোনার কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে। একটি সাধারণ নিয়ম হলো “৬০/৬০ রুল”—অর্থাৎ সর্বোচ্চ ভলিউমের ৬০% এর বেশি না শোনা এবং একটানা ৬০ মিনিটের বেশি না শোনা। এর মাধ্যমে কানের ক্ষতি অনেকাংশে কমানো যায়।
কানের সুরক্ষার জন্য কিছু সহজ পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। যেমন, খুব শব্দপূর্ণ পরিবেশে ইয়ারপ্লাগ ব্যবহার করা, হেডফোনে ভলিউম কম রাখা, এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর কানের বিশ্রাম দেওয়া। এছাড়া, যদি কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ (টিনিটাস), ব্যথা, বা শুনতে অসুবিধা হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সর্বোপরি, আমাদের মনে রাখতে হবে—শ্রবণশক্তি একবার নষ্ট হলে তা আর ফিরে পাওয়া যায় না। তাই সচেতনতা এবং সঠিক অভ্যাসই আমাদের কানের সুস্থতা বজায় রাখতে পারে।