সুস্থ ...">
সুস্থ শরীর ও ভালো মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই কাজের চাপ, মোবাইল ব্যবহার বা অনিয়মিত জীবনযাত্রার কারণে ঠিকমতো ঘুমান না। আবার কেউ কেউ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ঘুমিয়ে ফেলেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সারাদিনে ঠিক কতক্ষণ ঘুমানো উচিত? বয়স, শারীরিক অবস্থা ও জীবনযাত্রার ওপর নির্ভর করে ঘুমের প্রয়োজন আলাদা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। এই সময়টুকু ঘুম শরীর ও মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেয় এবং পরের দিনের কাজের জন্য প্রস্তুত করে। কম ঘুম হলে শরীরে ক্লান্তি, মনোযোগের অভাব ও খিটখিটে মেজাজ দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি থাকলে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিও বাড়ে।
শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে ঘুমের প্রয়োজন আরও বেশি। নবজাতক শিশুদের দিনে প্রায় ১৪ থেকে ১৭ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন হয়। স্কুলপড়ুয়া শিশুদের সাধারণত ৯ থেকে ১১ ঘণ্টা ঘুম দরকার। কারণ ঘুমের সময়ই তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ দ্রুত ঘটে। অন্যদিকে বয়স্ক মানুষদের ক্ষেত্রে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা ঘুম অনেক সময় যথেষ্ট হতে পারে।
শুধু ঘুমের সময় নয়, ঘুমের মানও গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি ৮ ঘণ্টা বিছানায় থাকেন কিন্তু বারবার ঘুম ভেঙে যায়, তাহলে শরীর পুরোপুরি বিশ্রাম পায় না। তাই গভীর ও শান্ত ঘুম খুব প্রয়োজন। ঘুমানোর আগে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার কমানো উচিত, কারণ স্ক্রিনের নীল আলো ঘুমের ক্ষতি করে। নিয়মিত নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাসও ভালো ঘুম নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
অনেকেই দুপুরে দীর্ঘ সময় ঘুমান, যা রাতের ঘুমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। দুপুরে বিশ্রাম নিতে চাইলে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের ছোট ঘুম যথেষ্ট। এতে শরীর সতেজ থাকে এবং কাজের মনোযোগও বাড়ে।
পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, স্মৃতিশক্তি উন্নত করে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। তাই সুস্থ জীবনযাপনের জন্য সঠিক সময়ে এবং প্রয়োজনমতো ঘুমানো খুব জরুরি। নিজের বয়স ও শরীরের চাহিদা অনুযায়ী ঘুমের সময় ঠিক রাখলে শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকবে।