গরমকাল...">
গরমকাল এলেই খাবারের তালিকায় দইয়ের চাহিদা বেড়ে যায়। শরীর ঠান্ডা রাখা, হজম ভালো করা এবং ক্লান্তি দূর করতে দইয়ের জুড়ি মেলা ভার। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে—গরমে টক দই বেশি ভালো, নাকি মিষ্টি দই? দু’ধরনের দইয়ের স্বাদ আলাদা হলেও স্বাস্থ্যগুণের দিক থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। তাই কোন দই শরীরের জন্য বেশি উপকারী, তা জানা প্রয়োজন। টক দই সাধারণত দুধে প্রাকৃতিকভাবে ব্যাকটেরিয়া তৈরি করে বানানো হয়। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোবায়োটিক থাকে, যা হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। গরমের দিনে অনেকেই গ্যাস, বদহজম বা পেটের সমস্যায় ভোগেন। টক দই অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে পেট ভালো রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে ক্যালোরি তুলনামূলক কম থাকে, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক।
অন্যদিকে মিষ্টি দইয়ের স্বাদ বেশি হওয়ায় অনেকেরই এটি পছন্দ। বিশেষ করে বাঙালিদের কাছে মিষ্টি দই একটি জনপ্রিয় খাবার। তবে এতে অতিরিক্ত চিনি মেশানো থাকে। ফলে এটি খেতে সুস্বাদু হলেও বেশি খেলে শরীরে ক্যালোরি ও চিনির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। ডায়াবেটিস বা ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকলে মিষ্টি দই সীমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো। গরমে শরীর দ্রুত জলশূন্য হয়ে পড়ে। টক দই লস্যি বা দই-চিঁড়ে হিসেবে খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে এবং শক্তিও পাওয়া যায়। এতে থাকা ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন শরীরকে সতেজ রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, টক দই নিয়মিত খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়তে পারে।
তবে এর মানে এই নয় যে মিষ্টি দই একেবারেই খাওয়া যাবে না। মাঝে মধ্যে পরিমিত পরিমাণে মিষ্টি দই খেলে তেমন ক্ষতি নেই। বিশেষ করে বাড়িতে কম চিনি দিয়ে তৈরি মিষ্টি দই তুলনামূলক ভালো বিকল্প হতে পারে। গরমকালে দই খাওয়ার সময় কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। বাজারের খোলা বা অনেকক্ষণ বাইরে রাখা দই এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ অতিরিক্ত গরমে দই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সবসময় টাটকা ও পরিষ্কারভাবে সংরক্ষিত দই খাওয়াই নিরাপদ।সব দিক বিবেচনা করলে বলা যায়, গরমের দিনে টক দই স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী। এটি শরীর ঠান্ডা রাখে, হজম ভালো করে এবং কম ক্যালোরিযুক্ত হওয়ায় দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় সহজেই রাখা যায়। তবে স্বাদের জন্য মাঝে মধ্যে অল্প মিষ্টি দইও খাওয়া যেতে পারে। স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সঠিক পরিমাণ ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।