গণতন্ত্রে সংখ্যার জোরই শেষ কথা বলে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সেই সংখ্যার জোরেই বিরোধীদের কোণঠাসা করতে চেয়েছেন। টকশো বা সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনা যে বিধানসভার অলিন্দে সরকার টিকিয়ে রাখতে বা ফেলতে পারে না, এই কঠোর বাস্তবটি মনে করিয়ে দিয়ে তিনি তৃণমূলকে নিশানা করলেন। তিনি বলেন, সজল ঘোষ জিতেছে কি সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে? বিজেপি তো ২০৯ হয়ে গিয়েছে। কাল যদি ফ্লোর টেস্ট করান, তাহলে আমি ২৭৫টা ভোট পাবো। ওদের মধ্যে ৬৪ জনও তো আমার পক্ষে হাত তোলার জন্য বসে আছে। এভাবে সমাজে ন্যারেটিভ তৈরি করতে পারবেন না বিরোধীরা।
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক চাপান-উতোর শুরু হয়েছে। আমরা এতদিন যা বলছিলাম, সেটাই ঠিক। ঋতব্রত তৃণমূল শিবির বিজেপির বি-টিম। ফ্লোর টেস্টে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি নিয়ে পাল্টা কটাক্ষ MAITC বিধায়ক কুণাল ঘোষের।
মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রীর কথা ধ্রুব সত্য বলে মেনে নিতে পারে, কিন্তু আমরা সেটা নিই না। আমরা সরকারের বিরোধীদল, বিপক্ষেই আছি। সরকারের খারাপ কাজের গঠনমূলক সমালোচনা করে তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কার্যক্রম আমরা নেব। পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সই জাল থেকে শুরু করে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে পাল্টা সোচ্চার ডেমোক্রেটিক তৃণমূল নেতা কোহিনূর মজুমদার। প্রশ্ন তুললেন বিজেপির বি-টিম কারা? মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসকে পাল্টা খোঁচা।
রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, বুথ স্তরের সাংগঠনিক সমীকরণ খুব ভালো বোঝেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ যখন প্রকাশ্যেই ডেমোক্রেটিক টিএমসি গড়ে মূল দল থেকে দূরত্ব তৈরি করেছে তৃণমূলেরই একাংশ, তখন শুভেন্দুর দাবি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
বিরোধীরা সমাজ মাধ্যমে আছে, কিন্তু ভোটে নেই, মানুষের হৃদয়ে নেই। মুখ্যমন্ত্রী সেই ইঙ্গিতই করলেন। অবস্থা এমনই ৮০ বিধায়ক পেয়েও ভেঙে খান খান তৃণমূল। তারা লক্ষ্যভ্রষ্ট। মুখ্যমন্ত্রীর কথা ১০০ শতাংশ খাঁটি। সোশ্যাল নেটওয়ার্ক নয়, মানুষের সঙ্গে নিবিড় সংযোগের মাধ্যমে তারা ক্ষমতায় এসেছেন। মত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ঝন্টু বরাইকের।
শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভার নেতা। বিধানসভায় কী হচ্ছে, কী হবে, তাঁর থেকে বেশি কেউ জানেন না। এর আগে রেজাল্টে তিনি দেখিয়েছেন। বললেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
গাণিতিক হিসেবে শুভেন্দুর এই আত্মবিশ্বাসী হুঙ্কার বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক আবহে তৃণমূলের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। তৃণমূলের দুই শিবিরের বিধায়কদের একটা বড় অংশ কি বুঝতে পারছেন যে, এই ডোবা নৌকায় বেশিদিন থাকলে তাঁদের নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও বিপন্ন হতে পারে? শুভেন্দু অধিকারী প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, তৃণমূলের দুর্ভেদ্য দুর্গের দেওয়ালে এখন বড়সড় ফাটল ধরেছে, যা যে কোনও মুহূর্তে ধসে যেতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার রাজ্যে এক নতুন ভোরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের একাংশের বিধায়করা বুঝতে পারছেন রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে শুভেন্দু অধিকারীকে সমর্থন করা প্রয়োজন। একে কেনাবেচা না বলে রাজনৈতিক দূরদর্শিতা বলাই শ্রেয় নয় কি?